শীতে একটি ডিমের দাম কি সোজা ২৫ টাকা ছুঁতে চলেছে? পোল্ট্রি বাজারে বড় দুর্যোগের আসল কারণ কী!

পোল্ট্রির খাবারের লাগামছাড়া দাম এবং ভুট্টার আকালে সাধারণ মানুষের কিচেন বাজেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভুট্টার একটি বড় অংশ ইথানল তৈরিতে চলে যাওয়ায় বাজারে এর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডিমের দামের ওপর।
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, পোল্ট্রি ফার্মগুলির প্রধান খরচই হয় মুরগির খাবার কিনতে গিয়ে, যার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জুড়ে থাকে ভুট্টা। ভারতে ইথানল উৎপাদনের চাহিদার কারণে বর্তমানে মোট উৎপাদিত ভুট্টার প্রায় ৩৭ শতাংশই এই খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ, তিন বছর আগে যে ভুট্টার দাম প্রতি টনে ১৪,০০০ টাকা ছিল, তা একলাফে বেড়ে হয়েছে ২৬,৫০০ টাকা। শুধু ভুট্টাই নয়, পোল্ট্রির প্রোটিনের অন্যতম উৎস সয়াবিন মিলের (সোয়া ডিওসি) দামও আকাশছোঁয়া। গত বছরের তুলনায় পোল্ট্রির সামগ্রিক খাদ্যের খরচ প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটি (NECC)-র তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ডিমের দাম এমনিতেই ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বর্তমানে ফার্মে প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় ৭ টাকা হলেও খুচরো বাজারে তা ৮.৫০ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতকালে ডিমের দাম ২৫ টাকা হতে পারে বলে যে জল্পনা চলছে, তার পেছনের সত্য হলো—সব ডিমের ক্ষেত্রে নয়, মূলত কিছু নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ডিমের দামই ওই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল উৎপাদক ও পোল্ট্রি মালিকদের মধ্যে এই কাঁচামাল টানাপোড়েন না থামলে ডিমের বাজারমূল্য সহজে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। সস্তার প্রোটিনের এই উৎসটি ক্রমশ মহার্ঘ হয়ে ওঠায় মধ্যবিত্তের চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে।