সুতির শাড়িতে নিখুঁত কারুকার্য! শান্তিপুরের তাঁত শিল্পীর তৈরি এই বিশেষ রাখি এখন চর্চায় দেশজুড়ে

হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি আর তার ওপর অপূর্ব সুতির সুতোর নিখুঁত বুনোটে তৈরি হয়েছে অভিনব রাখি। ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কের এই বিশেষ উৎসবের প্রাক্কালে নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের ফুলিয়া নিবাসী রাষ্ট্রপ্রতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত তাঁত শিল্পী বীরেন বসাকের পুত্র অভিনব বসাকের এই অনন্য উদ্যোগ এখন গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যেই এই হস্তশিল্পের সুতির রাখি পৌঁছে গিয়েছে দেশের মহামহিম রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের দফতরে।
শুক্রবার দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে পবিত্র রাখিবন্ধন উৎসব। সনাতন এই শুভ তিথিতে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় বোনরা হাতে রাখি পরিয়ে দেন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বাজারে নিত্যনতুন ডিজাইনের রাখি ও নানা পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। তবে চলতি বছর প্রচলিত ধাতব বা প্লাস্টিকের রাখির ট্রেন্ড ভেঙে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক প্রয়াস সামনে এনেছেন তরুণ তাঁত শিল্পী অভিনব বসাক। যিনি ইতিপূর্বেই ৫০০ কাউন্টের সূক্ষ্ম শাড়ি তৈরির মাধ্যমে জাতীয় স্তরে প্রভূত প্রশংসা ও রাষ্ট্রপতি সম্মান লাভ করেছেন।
উল্লেখ্য, শান্তিপুরের ফুলিয়ার এই বসাক পরিবার দেশজুড়ে তাঁত শিল্পের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। অভিনব বসাকের পিতা বীরেন বসাক লিমকা বুক অফ রেকর্ড, সন্ত কবীর হ্যান্ডলুম অ্যাওয়ার্ড, ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এবং পদ্মশ্রীর মতো একাধিক সর্বভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এবার সেই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাকেই বজায় রেখে পুত্র অভিনব সম্পূর্ণ সুতির তাঁতের কাপড়ের ওপর নতুন আঙ্গিকে রাখি তৈরির এই অভিনব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরে বিশেষ সজ্জার মোট ৬৫ পিস সুতির রাখি তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক কম্পিউটার চালিত ডিজাইনের সাহায্য নিয়ে তৈরি এই রাখিগুলো ছোট ও বড়—উভয় বয়সের মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে দু’টি ভিন্ন মাপে প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুতির সুতো দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে এই রাখিতে ত্বক সংক্রান্ত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বা অ্যালার্জির সম্ভাবনা নেই বলেই দাবি করেছেন শিল্পীর পরিবার।
এ প্রসঙ্গে তাঁত শিল্পী অভিনব বসাক জানান, “প্রথম থেকেই ভাবনা ছিল রাখি পূর্ণিমার মতো পবিত্র উৎসবে ঐতিহ্য বজায় রেখে নতুন কিছু উপহার দেওয়ার। সেই ভাবনা থেকেই সুতির কাপড়ের ওপর এই রাখি প্রস্তুত করা শুরু হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে এই রাখি পাঠানোর পর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কীভাবে এটি পৌঁছে দেওয়া যায় এবং এর বাণিজ্যিক প্রসার ঘটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।” আগামী দিনে সাধারণ মানুষের চাহিদা এবং বাজারের ট্রেন্ড দেখে এই বিশেষ সুতির রাখির উৎপাদন আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানান তিনি।