জিবি মিটিংয়ের উত্তেজনায় পুড়ল পতাকা, ভাঙল ঐতিহ্যবাহী লোগো! যাদবপুর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ আদালতের!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ব্যাপক অশান্তি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে পুনরায় মামলার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২১ অগস্ট জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তা খারিজ করে দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি করা হবে।

আইনজীবী রীতঙ্কর দাস এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করার দাবিতে ২০২৫ সালে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। বর্তমানে মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চেই বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সাধারণ সভা বা জিবি (GB) মিটিংকে কেন্দ্র করে বাম ও এবিভিপি (ABV) ছাত্র সংগঠনের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে, তার সঙ্গে ওই পুরোনো মামলাটিকে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির জোরালো আর্জি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযোগ ওঠে, একদল বহিরাগত জোরপূর্বক ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ ঘটায়। দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে পড়ে যে একাধিক ছাত্রছাত্রীকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এমনকি, বামেদের পতাকা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে। পরদিন দুপুরেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে এবং এই লাগাতার তাণ্ডবের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে থাকা ঐতিহ্যবাহী লোগোটি ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রতীক দ্রুত মেরামত করে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যাদবপুর থানায় একাধিক পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খোদ উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, গত ২০ অগস্ট রাত ১২টা বেজে ৩৭ মিনিটের পর একদল অজ্ঞাতপরিচয় বহিরাগত জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং হুমকি দেয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আজ উভয় পক্ষই পালটা প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে।

পূর্বে তৃণমূল সরকারের আমলে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় মন্ত্রীর গাড়ি আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক বা বহিরাগত অনুষ্ঠান ক্যাম্পাসের ভেতর করা যাবে না। পাশাপাশি সুরক্ষার খাতিরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক ঘটনার তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।