কারাবন্দি ইমরান খানের জীবনের আলো নিভে আসছে? দুই ছেলের বিস্ফোরক দাবিতে কাঁপছে পাকিস্তান!

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার অত্যন্ত গভীর ও মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তাঁর দুই পুত্র—সুলেমান ও কাসিম খান। অনলাইনে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে, কারাগারের অমানবিক পরিবেশে ৭৩ বছর বয়সি ইমরানের স্বাস্থ্য দিন দিন বিপজ্জনকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং তাঁর জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
ইমরানের ছেলেদের অভিযোগ, কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাঁদের বাবার ওপর যেভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তাতে তিনি বেঁচে থাকবেন কি না, তা নিয়েই এখন চরম সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কাসিম খান সরাসরি অভিযোগের সুরে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে কারাগারে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনার চেয়ে মৃত্যুর আশঙ্কাই অনেক বেশি প্রবল।” এমনকি ইমরানের আন্তর্জাতিক আইনজীবী জ্যারেড জেনসার এই কারাবাসের অবস্থাকে এক নির্মম পরিহাসের সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেছেন যে, মাত্র ১.৮ বাই ২.৪ মিটারের একটি অতি ক্ষুদ্র সেলে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৩ ঘণ্টা প্রাকৃতিক আলো ও বাইরের বাতাস থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে একপ্রকার নিঃসঙ্গ বন্দিদশায় রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালত ইমরানকে একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁকে এক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পাক সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, কিন্তু ছেলেদের দাবি, এই সরকারি সাফাই ডাহা মিথ্যা।
একাধিক গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা, বিশেষ করে চোখের নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস এবং দুর্নীতির ভুয়ো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ বরাবরই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইমরান। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরানের দুই ছেলে এখনও পাকিস্তানে গিয়ে তাঁদের অসুস্থ বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অনুমতি পাননি। শেষবার ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বাবার সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। বিশ্বজয়ী নেতার এমন করুণ দশা ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।