এক ধাক্কায় ৯ লাখেরও বেশি নারীর ভাগ্য বদল! দিল্লির ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিলি হলো লক্ষ্মী যোজনার প্রথম অ্যাপ্রুভাল লেটার

দিল্লির নারী সমাজের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন ও ক্ষমতায়নের পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল প্রশাসন। বুধবার রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক তালकटোরা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রথম আড়াই হাজার নারীর হাতে ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’-র অফিশিয়াল অনুমোদন বা অ্যাপ্রুভাল লেটার তুলে দেওয়া হলো। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা নিজে উপস্থিত থেকে এই কল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমান সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিন তিনি ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারীর অবদান তুলে ধরে বলেন যে, মহিলারা হলেন স্বয়ং দেবী লক্ষ্মীর প্রতিরূপ, যাঁরা নিখুঁত হাতে সংসার ও সমাজ উভয়কেই এক সুতোয় বেঁধে শক্তিশালী করে তোলেন।

এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দিল্লির উপরাজ্যপাল তরণজিৎ সিং সান্ধু, ভারতীয় জনতা পার্টির দিল্লি শাখার সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক বিশিষ্ট মন্ত্রী উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অত্যন্ত জনমুখী এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৯৫ জন উপভোক্তা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে ৬ লক্ষ ৫২ হাজার ২২৩ জন নারী তাঁদের সম্পূর্ণ ও ত্রুটিহীন আবেদনপত্র সফলভাবে জমা দিয়েছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সমস্ত যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের নির্ধারিত ২৫০০ টাকা সরাসরি পাঠানো শুরু হবে। সরকারের এই প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা রাজ্যের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং তাঁদের আরও বেশি আর্থিক নিরাপত্তা দিতে সাহায্য করবে।

প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে এক অভিনব ও বহুমুখী মডেল সামনে এনেছে প্রশাসন। সুবিধাভোগী মহিলারা চাইলে এই ২৫০০ টাকার মধ্যে ১০০০ টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা (CBDC)-র মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন এবং বাকি ১৫০০ টাকা লাভজনক সাবোধি জমা (Fixed Deposit) কিংবা রেকারিং ডিপোজিটে (Recurring Deposit) বিনিয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া পুরো ২৫০০ টাকাই সঞ্চয় হিসেবে জমিয়ে রাখার সম্পূর্ণ স্বাধীনতাও তাঁদের দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, যেসব আবেদনকারী ফর্মে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তাঁদের জন্য শীঘ্রই পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা কারেকশনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী হবেন। তবে যেসব পরিবারে সন্তানের সংখ্যা তিনের বেশি এবং বার্ষিক গৃহস্থালী বিদ্যুৎ খরচ ২৪০০ ইউনিটের বেশি, সেই পরিবারের মহিলারা এই যোজনার আওতা থেকে বাদ পড়বেন। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ দিল্লির নারী শক্তিকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty