কাজু-কিসমিস থেকে পেঁয়াজ-চিনি—হঠাৎ ১০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বাড়লো ড্রাই ফ্রুটসের

দেশজুড়ে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে উৎসবের মরশুম। কিন্তু উৎসবের আনন্দ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আমজনতার রান্নাঘর। একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান ধরাতে শুরু করেছে। চিনির প্যাকেট কিংবা পেঁয়াজের ঝাঁঝের পর এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ড্রাই ফ্রুটস বা শুকনো ফল। উৎসবের ঠিক মুখেই বাদাম, কাজু ও কিসমিসের মতো জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মধ্যবিত্তের।
কোথায় কতটা বাড়ল দাম?
বিভিন্ন রাজ্যের বাজার থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাতের আমেদাবাদ ও সুরাতের পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের একাধিক বড় শহরে ড্রাই ফ্রুটসের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মুম্বইয়ের বিখ্যাত ভাসী পাইকারি বাজারে শুকনো ফলের পাইকারি ও খুচরো দাম এক ধাক্কায় ২০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তার আন্দাজ পাওয়া যায় পুনের বাজারের সাম্প্রতিক চিত্র দেখলে। মাত্র গত ১৫ দিনের ব্যবধানে সেখানে বাদাম, পেস্তা এবং কাজুবাদামের দাম প্রতি কেজিতে একলাফে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত উৎসবের মরশুমে ড্রাই ফ্রুটসের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর সরাসরি কোপ বসাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আমেদাবাদ ও সুরাতের ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন যে, পাইকারি ও খুচরো—উভয় বাজারেই ড্রাই ফ্রুটসের দাম এখন লাগামছাড়া।
পিছিয়ে নেই পেঁয়াজ ও চিনিও:
শুধু ড্রাই ফ্রুটস একা নয়, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে রান্নাঘরের অন্য দুই অতি প্রয়োজনীয় উপাদান—পেঁয়াজ ও চিনির দাম। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, কলকাতার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ইতিমধ্যেই ৬০ টাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছে। দেশের বহু মার্কেটে তো পেঁয়াজের দাম ছুঁয়ে ফেলেছে প্রায় ৭০ টাকার কাছাকাছি। এই আগুন দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষ পর্যন্ত নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে পেঁয়াজ পৌঁছানোর জন্য ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ বা বিশেষ ট্রেন চালু করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। পাশাপাশি, প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে সরকারি বাফার স্টক থেকেও পেঁয়াজ সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চিনির বাজারেও স্বস্তির কোনো খবর নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিনির গড় খুচরো দাম ৬০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। উৎসবের ঠিক আগে পেঁয়াজ, চিনি এবং সবশেষে ড্রাই ফ্রুটসের এমন ছ্যাঁকা লাগা দাম সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। উৎসবের এই মরশুমে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে কীভাবে এই বাড়তি খরচের বোঝা সামলাতে হবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।