হকি বিশ্বকাপের ভরাডুবিতে কঙ্কালসার ফিটনেস! কোহলির প্রশংসার পরেই ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য!

বিরাট কোহলির মুখে ভারতীয় হকি দলের ফিটনেসের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেলেও, বাস্তবের মাটিতে এক্কেবারে অন্য চিত্র উঠে এল। সদ্যসমাপ্ত হকি বিশ্বকাপে (Hockey World Cup 2026) ভারতের জঘন্য পারফরম্যান্স চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল দলের ফিটনেসের আসল কঙ্কালসার চেহারা। আর্জেন্তিনার কাছে ৫-৩ গোলে হেরে মেগা ইভেন্ট থেকে ভারতের বিদায়ের পর এই চরম বিপর্যয়ের ময়নাতদন্তে উঠে আসছে দলের মিডফিল্ডারদের বিপুল ফিটনেস ঘাটতি। আন্তর্জাতিক হকির আধুনিক গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে লড়াই করার জন্য যে শারীরিক সক্ষমতা ও স্ট্যামিনার প্রয়োজন, তার চরম অভাব দেখা গেল ভারতীয় শিবিরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হকির মতো আধুনিক ও দ্রুতগতির খেলায় সবচেয়ে বড় শর্ত হলো ‘রিপিট স্প্রিন্ট অ্যাবিলিটি’ (Repeat Sprint Ability)—অর্থাৎ টানা ষাট মিনিট ধরে আক্রমণ ও ডিফেন্সে দ্রুত দৌড়ে পজিশনে ফেরা। কিন্তু বর্তমান দলের খেলোয়াড়রা সেই মাপকাঠিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। হায়দরাবাদ তুফানস-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তথা কোচ সিদ্ধার্থ পাণ্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যখন মিডফিল্ডাররা বল হারিয়ে দ্রুত রক্ষণে ফিরে জায়গা ভরাট করতে পারেন না, তখন বুঝতে হবে তাঁদের ফিটনেসের অভাব রয়েছে। অতীতের গ্রাহাম রিড এবং বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা রবিন আর্কেলের আমলে ভারতীয় দল শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে চূড়ান্ত উৎকর্ষে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অ্যালান ট্যানের জমানায় সেই ধারায় ছন্দপতন ঘটেছে।

দলের এই বেহাল দশার পেছনে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বয়সের ভার ও ধীরগতির উত্তরণও অন্যতম প্রধান কারণ। এবারের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের গড় বয়স ছিল ২৮.৪ বছর। অলিম্পিক্সে সাফল্যের কারিগর এই কোর গ্রুপ এখন দীর্ঘ ক্লান্তি ও অতিরিক্ত ম্যাচের ধকলে অনেকটাই ন্যুব্জ। অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের ফিটনেসে প্রস্তুত করে তোলার প্রক্রিয়াও যথেষ্ট শ্লথ। সবমিলিয়ে কোহলির করা প্রশংসার সুদিন পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্স এখন এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty