হরিশ মুখার্জি রোডে শিউরে ওঠার মতো ঘটনা! মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে আসতেই কোন বড় ফাঁদে পড়ল অভিযুক্ত?

খাস কলকাতার বুকে এক পরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। সংবেদনশীল এই ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার অভিজাত ভবানীপুর থানা এলাকার হরিশ মুখার্জি রোড সংলগ্ন একটি আবাসিক চত্বরে। ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং পুলিশি পদক্ষেপের প্রশংসার পাশাপাশি গোটা এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল জানান, নির্যাতিতা মহিলার সমস্ত প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করা হয়েছে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমস্ত লুকোনো তথ্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট অর্থাৎ সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ৩৫ বছর বয়সি এক যুবতী সটান ভবানীপুর থানায় হাজির হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বহুতলে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে মহিলার জবানবন্দি গ্রহণ করে। থানায় কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম মেনে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং সমগ্র প্রক্রিয়াটির ভিডিওগ্রাফিও করা হয়। এরপর নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভবানীপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধমূলক ধারায় মামলা দায়ের করার পর, অভিযোগকারিণীর সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। সেই শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পুলিশ ওই মামলায় আরও বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত ও কঠোর ধারা যুক্ত করে। এর পরেই গোয়েন্দারা আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত পাকাপোক্ত খবরের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার ভোর চারটে বেজে পাঁচ মিনিট নাগাদ খোদ হরিশ মুখার্জী রোডের একটি নির্দিষ্ট বাড়ি থেকেই অভিযুক্ত অর্জুন প্রসাদ যাদব ওরফে অর্জুন যাদবকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার ধৃত অভিযুক্তকে আলিপুর পুলিশ আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের বিচারক মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশি জেরায় চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, অভিযোগকারিণী এবং অভিযুক্ত অর্জুন একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন। একই বাড়িতে কাজের সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়েছিল। নির্যাতিতা ওই বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন, অন্যদিকে অভিযুক্ত অর্জুন ওই একই বাড়িতে একটি পোষ্য কুকুরের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, কিংবা অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণীর পূর্ব সম্পর্কের আসল সমীকরণ কী ছিল, তা এখন খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখছে ভবানীপুর থানার তদন্তকারী দল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty