অকালেই চিরবিদায় মার্কিন কান্ট্রি কিংবদন্তি ডলি পার্টনের! দীর্ঘ ক্যানসার যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী!

মার্কিন কান্ট্রি সঙ্গীতের অবিসংবাদিত সম্রাজ্ঞী তথা কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ডলি পার্টন আর নেই। দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণময় সঙ্গীতযাত্রার অবসান ঘটিয়ে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই বিশ্বখ্যাত তারকা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর থেকেই গোটা বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমী ও বিনোদন দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার কেন্দ্রে শেষ সময়ে তাঁর পরিজন ও প্রিয়জনেরা পাশে ছিলেন।
বারো ভাইবোনের এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া ডলি ছোটবেলা থেকেই চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। কিন্তু অভাব কখনোই তাঁর প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই তিনি গান লিখতে শুরু করেছিলেন। শৈশবের সেই কঠিন সংগ্রাম ও বাস্তব অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর বহু কালজয়ী গানে প্রতিবিম্বিত হয়েছে। তেরো বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে মঞ্চে পা রাখার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৬৪ সালে স্কুলজীবন শেষ করেই সোজা ন্যাশভিলে পাড়ি জমান এবং ১৯৬৭ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘হ্যালো, আই অ্যাম ডলি’ প্রকাশের মাধ্যমেই বিশ্বসঙ্গীতের দুনিয়ায় নিজের স্থায়ী জায়গা করে নেন।
তাঁর কণ্ঠে ‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালার্স’ এবং অমর সৃষ্টি ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো গান বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে তাঁর ১০ কোটিরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে। বিশেষ করে ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ পরবর্তী সময়ে কিংবদন্তি হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন করে বিশ্বজয় করেছিল। শুধু গান গাওয়া বা গীতিকার হিসেবেই নয়, অভিনয়ের জগতেও তিনি সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। ‘নাইন টু ফাইভ’, ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
সঙ্গীত ও বিনোদনের বাইরেও সমাজসেবামূলক কাজে তিনি ছিলেন সবসময় অগ্রণী। শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণের জন্য তিনি ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়া টেনেসিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ডলিউড’ বিনোদন উদ্যান স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখে। ২০১৬ সালের ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বর্ণময় কেরিয়ারে তিনি ৫৫ বার গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং ১০টি prestigious গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া ২০২৫ সালে চলচ্চিত্র জগতের অসামান্য মানবিক অবদানের জন্য তিনি ‘জিন হার্শল্ট মানবিক পুরস্কার’-এ ভূষিত হন।
ডলি পার্টনের মহাপ্রয়াণে মার্কিন বিনোদন জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ হলিউডের বহু নামী ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হলিউড চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডলি পার্টন শারীরিকভবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর কালজয়ী সুর, অসামান্য সৃষ্টি এবং মানবপ্রেমের পৃথিবী যুগ যুগ ধরে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।