ঠাকুরের আসনের পাশেই কুণ্ডলী পাকিয়ে বসেছিল সাড়ে চার ফুটের বিষধর! ধূপগুড়ির এই লোমহর্ষক কাণ্ডে ঘুম উড়েছে এলাকাবাসীর!

জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বর্ষার মরশুমে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়া একটি বিষধর কালাচ সাপকে harmless (অক্ষতিকর) দাঁড়াশ সাপ ভেবে ভুল করেন বাড়ির মালিক। শুধু তাই নয়, সেটিকে মা মনসার আশীর্বাদ মনে করে দুধ, কলা ও ফুল দিয়ে পুজোও করেন তিনি। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, ওই বিষধর সাপটি ঘরের ভিতরে থাকা অবস্থাতেই পরিবারের সবাই মিলে নির্দ্বিধায় রাত কাটিয়ে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির মালিক কৃষ্ণগোপাল সরকারের ঘরে সাপটি ঢুকে পড়ার পর প্রথমে কেউ তার আসল পরিচয় বুঝতে পারেননি। নির্বিষ দাঁড়াশ ভেবে গৃহকর্তা রীতিমতো ভক্তিভরে পুজোপাঠ শুরু করেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা বাড়িতে এসে পরিস্থিতি দেখে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর কালক্ষেপ না করে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী তথা সর্পপ্রেমী যুবক ভজন সাহাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর প্রবেশ করতেই তাঁর চোখ কার্যত কপালে ওঠে।

সর্পপ্রেমী ভজন সাহা গিয়ে দেখেন, ঠাকুরের ঠিক আসনের পাশেই কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে রয়েছে একটি প্রায় সাড়ে চার ফুট লম্বা বিষধর কালাচ সাপ। যার সামনে তখনও সযত্নে রাখা রয়েছে পূজোর দুধ, কলা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ফুল। সাপটির আসল পরিচয় জানতে পেরে মুহূর্তে পায়ের তলার মাটি সরে যায় গৃহকর্তার। চিকিৎসকদের মতে, কালাচ অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ। এত কাছে থেকে এমন একটি সাপের সঙ্গে রাত কাটানো মানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া। বরাতজোরে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ওই পরিবার।

পরে ওই সর্পপ্রেমী যুবক চরম সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন এবং পরে সেটিকে উপযুক্ত জঙ্গলে ছেড়ে দেন। সাপ উদ্ধারের পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার পর সর্পপ্রেমী ভজন সাহা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্ষাকালে শুকনো ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সাপের দল লোকালয়ে চলে আসে। তাই রাতে চলাফেরার সময় সবসময় টর্চ ব্যবহার করা এবং ঘুমোনোর আগে বিছানা ও ঘরের কোণ ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty