বলিউডে শোকের মাতম! অজয় দেবগণের প্রথম ছবির পরিচালক কুকু কোহলির আকস্মিক প্রয়াণে স্তম্ভিত গোটা ইন্ডাস্ট্রি!

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের অন্যতম খ্যাতনামা ও বর্ষীয়ান পরিচালক কুকু কোহলি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মুম্বইয়ের নামী কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কান্নার রোল পড়ে গেছে। বিশেষ করে সুপারস্টার অজয় দেবগণের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের প্রথম অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই বিখ্যাত পরিচালকের চলে যাওয়ায় নব্বইয়ের দশকের স্বর্ণালী দিনের একাধিক জনপ্রিয় ছবির স্মৃতি ফের চনমন করে উঠেছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং চিকিৎসকদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কুকু কোহলি বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাঁর হৃদযন্ত্রের ব্লকেজ অপসারণের জন্য চিকিৎসকেরা সফলভাবে স্টেন্ট বসান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও, গত মঙ্গলবার, ২৫ অগস্ট সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি ফের মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিরবিদায় নেন।
সন্দেশ কোহলি থেকে কুকু কোহলি হয়ে ওঠার এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথটি ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। বলিউডের সোনালী দিনে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ কাপুরের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির খুঁটিনাটি খুব কাছ থেকে শিখেছিলেন। পরবর্তীকালে প্রখ্যাত পরিচালক রাহুল রাওয়েলের সহকারী হিসেবে তিনি সানি দেওলের ব্লকবাস্টার ছবি ‘বেতাব’ এবং ‘অর্জুন’-এর মতো জনপ্রিয় প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে মূলধারার কমার্শিয়াল ছবি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত করে তুলেছিল এবং ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কালজয়ী ছবি ‘ফুল অউর কাঁটে’ দিয়ে তিনি পরিচালক হিসেবে রাজকীয় আত্মপ্রকাশ করেন।
পরিচালক হিসেবে কুকু কোহলির প্রথম ছবিই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ‘ফুল অউর কাঁটে’ কেবল বক্স অফিসে দুর্দান্ত বাণিজ্যিক সাফল্যই অর্জন করেনি, বরং হিন্দি সিনেমা জগৎকে উপহার দিয়েছিল এক নতুন অ্যাকশন হিরো—অজয় দেবগণ। চলন্ত দুটি গাড়ির ওপর দুই পা রেখে অজয় দেবগণের সেই আইকনিক এন্ট্রি দৃশ্য আজও সিনেপ্রেমীদের মনে চিরভাস্বর হয়ে আছে। এই একটিমাত্র ছবি অজয় দেবগণের কেরিয়ারের ভিত শক্ত করে দিয়েছিল এবং পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি বলিউডের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। এই সফল জুটির পথচলা এখানেই শেষ হয়নি; ১৯৯৪ সালে তাঁদের হাত ধরেই আসে ‘সুহাগ’ ছবিটি, যেখানে অজয়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন জনপ্রিয় তারকা অক্ষয় কুমার ও করিশ্মা কাপুর।
অজয় দেবগণ ছাড়াও নব্বইয়ের দশকের একাধিক সুপারস্টারকে নিয়ে বক্স অফিসে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন কুকু কোহলি। ১৯৯৫ সালে তব্বুর বিপরীতে ‘হকিকত’ পরিচালনার পাশাপাশি, তাঁর ঝুলিতে রয়েছে গোবিন্দার দ্বৈত অভিনীত ‘আনারি নম্বর ওয়ান’ এবং অক্ষয় কুমার ও টুইঙ্কল খান্না অভিনীত ‘জুলমি’-র মতো জনপ্রিয় সব ছবি। পরবর্তীতে ২০০২ সালে তাঁর পরিচালনায় মুক্তি পায় সুপারহিট মিউজিক্যাল ড্রামা ‘ইয়ে দিল আশিকানা’। চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ বর্ণময়, যেখানে প্রখ্যাত অভিনেত্রী অরুণা ইরানির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বিবাহিত সম্পর্ক এবং দুই কন্যা পুজা ও করিশ্মার সফল উপস্থিতি চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। ওশিওয়াড়া শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সহকর্মী থেকে শুরু করে অনুরাগীরা শোকস্তব্ধ।