এসটিএফ থানা ও আদালত মামলায় বড় ধাক্কা! হাইকোর্টের নির্দেশ উড়িয়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য সরকারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ (STF)-এর কাজের পরিধি বাড়াতে বিধাননগর ও শিলিগুড়িতে দুটি পৃথক থানা এবং বিশেষ আদালত গঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বড়সড় আইনি মোড় এল। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্যের করা মামলায় বড় স্বস্তি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়, যেখানে হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর স্পষ্ট স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।

পুরো মামলার পটভূমি কী? রাজ্য সরকারের তরফে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এবং ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধাননগর ও শিলিগুড়িতে এসটিএফ-এর জন্য পৃথক থানা এবং তার আওতাধীন মামলার শুনানির জন্য বিশেষ আদালতের বন্দোবস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মূলত বেআইনি অস্ত্র কারবার এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের গতি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ করা হয়। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। গত ১৯ জুন হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সেই দুটি নোটিশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছিল।

হাইকোর্ট সেসময় পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, এসটিএফ-এর জন্য আলাদা থানা বা পুলিশি কাঠামোর বাইরে গিয়ে পৃথক আদালত তৈরির এক্তিয়ার রাজ্য সরকারের নেই। এছাড়া একই অপরাধে একাধিক মামলার জেরে সাক্ষী ও মামলাকারীদের নানাবিধ আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য এসটিএফ। এদিনের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, যেভাবে বর্তমানে সাইবার জালিয়াতি ও অন্যান্য অপরাধের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আরও বেশি আদালতের প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের ঠিক কী সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। শীর্ষ আদালতের এই অন্তর্বর্তী আদেশের ফলে এসটিএফ থানা ও বিশেষ আদালত গঠনের প্রক্রিয়া আপাতত আইনি জট কাটিয়ে অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।