বিদ্রোহী টিএমসি সাংসদদের কপালে শনি! সদস্যপদ খারিজের মামলার শুনানিতে কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন সংক্রান্ত মামলায় তীব্র আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫শে আগস্ট) এই মামলার শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট। বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকারের বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর, আদালত অভিযুক্ত সাংসদদের কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিশ পাঠিয়েছে। এই আইনি লড়াইতে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে সলিসিটর জেনারেল আদালতকে স্পিকারের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি না করার জন্য অনুরোধ জানান এবং জানান যে স্পিকার নিজে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে জবাব তলব করেছেন। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই মুহূর্তে সাংবিধানিক সংস্থাকে সরাসরি কোনো নির্দেশ বা নোটিশ দিতে চাইছে না, তবে গোটা প্রক্রিয়া যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে।

পুরো বিতর্কের নেপথ্যে কী রয়েছে? মূলত চলতি বছরের জুন মাসেই সংবিধানের দশম তফসিলের (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অধীনে এই বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও স্পিকারের কার্যালয় থেকে কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ না করায় ক্ষুব্ধ হন দলের নেতৃত্ব। এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান অভিষেক ব্যানার্জী।

স্বয়ং অভিষেক ব্যানার্জী সহ দলের অন্যান্য প্রতিনিধিরা স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিলেও কোনো সুরাহা না মেলায় তাঁরা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হন। আবেদনকারীদের যুক্তি, ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদই দলীয় প্রতীকে জয়ী হয়ে পরবর্তীতে ভিন্ন পথে হেঁটেছেন, তাই দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী অবিলম্বে তাঁদের সংসদ সদস্য পদ খারিজ করা উচিত। শীর্ষ আদালত এখন অন্যান্য অভিযুক্তদের জবাব তলব করার পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।