স্ত্রীর চোখের সামনে বিজেপি কর্মীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন! চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জালে প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি!

বারুইপুরের হাড়দহ পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাঙারবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজেপির এক বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য তথা প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে দুর্গাপুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও উত্তেজনা শুরু হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন মৃত বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ উঠেছে, কথাকাটাকাটির মাঝেই আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাপির ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। স্ত্রীর চোখের সামনেই তাঁকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বারুইপুর থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্তে নামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণা মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া—এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দুর্গাপুজোর কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিবাদই এই হত্যাকাণ্ডের মূল অনুঘটক হতে পারে। তবে এর পেছনে দীর্ঘদিনের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কাজ করেছে কি না, তাও সমানভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ধৃত সুজন মণ্ডলের সঙ্গে নিহত বাপির দীর্ঘদিনের অন্তদ্বন্দ্ব ছিল। তবে বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ধৃত সুজন মণ্ডলকে আগেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, ফলে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি দলীয় যোগের অভিযোগ মানতে নারাজ নেতৃত্ব।

খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্যদের চিহ্নিত করতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধ কীভাবে এমন একটি মর্মান্তিক ও প্রাণঘাতী পরিণতিতে পৌঁছাল, তা উদঘাটন করতে তদন্ত জারি রেখেছে বারুইপুর থানার বিশেষ তদন্তকারী দল।