প্রতি ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার বাড়ছে জল! বারাণসীর রাস্তা ভেসে যাওয়ায় সিঁড়ি ছাড়াই চলছে পুণ্যস্নান

ঘাটের শহর হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ঐতিহাসিক বারাণসীতে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি। নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর ফলে গোটা শহরজুড়ে এক চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বারাণসীর বিখ্যাত নদীঘাটগুলি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ জলের তলায় তলিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গঙ্গার উত্তাল জলরাশি ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলির সমস্ত সিঁড়ি ডুবিয়ে দিয়ে সরাসরি নদীপারের আবাসিক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে ঢুকে পড়েছে। যার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
পবিত্র ও ঐতিহাসিক দশাশ্বমেধ ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানকার মূল সিঁড়ি ছাপিয়ে গঙ্গার জল এখন সরাসরি সামনের চওড়া রাস্তায় উপচে পড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পুণ্যার্থীরা ঐতিহ্যবাহী সিঁড়ি দিয়ে নেমে গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করার সুযোগ হারাচ্ছেন, পরিবর্তে রাস্তায় জমে থাকা নদীর জলেই বহু মানুষ ও সাধু-সন্ন্যাসীরা ভক্তিভরে পুণ্য স্নান সারছেন। প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরে যেভাবে লাগাতার জলস্তর বাড়ছে, তাতে বারাণসীতে গঙ্গার জলস্তর প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ২ সেন্টিমিটার হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এই জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬৫ মিটারের সর্বোচ্চ বিপজ্জনক উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা গত কয়েক বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও এনডিআরএফ (NDRF) সূত্রে জানা গেছে, নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বারাণসীর বিখ্যাত গঙ্গা আরতি ও অন্যান্য প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠানগুলিও এই জলবৃদ্ধির কারণে প্রভাবিত হয়েছে। ঘাটগুলির আশেপাশের দোকানপাট ও ব্যবসায়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিরাম মাইকিং করে নদীপারের মানুষদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যদি এই গতিতে জলস্তর বাড়তে থাকে, তবে বারাণসীর নিম্নাঞ্চলগুলির বিস্তীর্ণ অংশ আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বারাণসীর এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এবং গঙ্গার আগ্রাসী রূপ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।