ভয়াবহ গ্যাস লিক কাণ্ডে বড়সড় বিপর্যয় এড়াল নাগপুর! জল শোধনাগার থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়াতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু উদ্ধারকাজ

নাগপুরের একটি ওয়াটার ফিল্টার প্লান্ট বা জল শোধনাগার থেকে হঠাৎই অত্যন্ত বিপজ্জনক ক্লোরিন গ্যাস লিক করার ফলে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মিশে যাওয়ার কারণে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং এলাকার বহু মানুষ গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হওয়া ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে। জনবহুল এলাকায় এমন একটি ভয়াবহ রাসায়নিক দুর্ঘটনা ঘটার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নাগপুরের নির্দিষ্ট ওই জল শোধনাগার বা ওয়াটার ফিল্টার প্লান্টের একটি সিলিন্ডার বা সঞ্চয়ী একক থেকে হঠাৎই ক্লোরিন গ্যাস লিক হতে শুরু করে। বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়তেই আশেপাশের বাসিন্দারা চোখে জ্বালা, সর্দি এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে বহু মানুষ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং অনেকে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। দমকল বাহিনী ও বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা দলের নিরলস প্রচেষ্টায় গ্যাস লিক হওয়া সিলিন্ডারটিকে নিরাপদ করার কাজ চালানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও বেশিরভাগ মানুষই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের গাফিলতি ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে গোটা নাগপুর জুড়ে শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকার জল শোধনাগারগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।