সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে নিখরচায় সোনার আংটি! তাক লাগাল এই রাজ্যের বড় ঘোষণা

তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশু ও প্রসূতি মায়েদের উৎসাহিত করতে এক ঐতিহাসিক ও অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রসবকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বহুল চর্চিত “মাতৃকুলের মামার সোনার আংটি প্রকল্প” বা “থাইমামান গোল্ড রিং স্কিম”। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মবার্ষিকীর পবিত্র দিনটিকে সামনে রেখেই এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ঘোষণা করেছিলেন যে, সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া সমস্ত নবজাতককে সরকারের পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ খাঁটি সোনার আংটি প্রদান করা হবে।

এই প্রকল্পের সফল রূপায়ণের জন্য তামিলনাড়ু মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই দেশের দুই নামী জুয়েলার্স—জয় আলুক্কাস এবং কল্যাণ জুয়েলার্সকে সুনির্দিষ্ট ৭০:৩০ অনুপাতে কাজের বরাত দিয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রসব করা যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য প্রথম দফায় মোট ১,২৮,৪৯৯টি সোনার আংটি সরবরাহ করতে হবে এই দুই সংস্থাকে। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়িয়ে রাজ্যজুড়ে মোট ৪,৪১,৬৬৭টি সোনার আংটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রতিটি সোনার আংটির ওজন সুনির্দিষ্টভাবে ১ গ্রাম ধার্য করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাই তামিলনাড়ু মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক মানের টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে মোট ১১টি স্বনামধন্য জুয়েলারি সংস্থা অংশগ্রহণ করে এবং পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের দরপত্র জমা দেয়।

প্রতিযোগিতামূলক এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জয় আলুক্কাস প্রতি গ্রাম সোনার প্রকৃত বাজার মূল্যের সঙ্গে মাত্র ০.০১ টাকা অতিরিক্ত প্রসেসিং চার্জ, বিমা, নিরাপদ পরিবহন এবং ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)-এর মান্যতামূলক হলমার্কিং খরচ যুক্ত করে সর্বনিম্ন দর জমা দেয়। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে কল্যাণ জুয়েলার্সও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সর্বনিম্ন দর পেশ করে। দুই সংস্থার এই সম্মিলিত দরপত্র গ্রহণ করে প্রশাসন ৭০:৩০ অনুপাতে আংটি তৈরির বরাত চূড়ান্ত করে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কেবল উপহার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি করা। বেসরকারি হাসপাতালের উচ্চ খরচ এড়িয়ে গরিব ও সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ প্রসবের জন্য সরকারি হাসপাতালেই আসেন, সেই বার্তা জোরালো করতেই এই অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নতুন অতিথির আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং মাতৃত্বের আনন্দকে সর্বজনীনভাবে উদযাপন করতে তামিলনাড়ু সরকারের এই কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গোটা দেশে এক নতুন নজির স্থাপন করতে চলেছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই মেগা প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে এখন থেকেই প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।