এলপিজি থেকে বাস সফর! তামিলনাড়ুতে জোসেফ বিজয়ের মেগা ঘোষণায় চমক

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ময়দানে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাজ্যবাসীর জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী জনকল্যাণমূলক সুবিধার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বেশ কিছু জনবহুল ও আকর্ষণীয় প্রকল্পের কথা প্রকাশ্যে আনেন, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই সমস্ত জনমুখী ঘোষণায় উপকৃত হবে রাজ্যের কোটি কোটি পরিবার।

মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার কম আয়ের প্রতিটি পরিবারকে বছরে তিনটি করে এলপিজি সিলিন্ডার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ‘অন্নপূর্ণী সুপার সিক্স’ নামের এই বিশেষ প্রকল্পটি ২০২৭ সালের পোঙ্গল উৎসব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে। সরকারের এই মেগা উদ্যোগে উপকৃত হবেন রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবার। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য সুবিধাভোগীরা যে তিনটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনবেন, সেই বাবদ খরচ হওয়া সমপরিমাণ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত বা জমা দেওয়া হবে। এর জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রকল্পটি জনসমক্ষে আনার সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের ঘাটতি এবং লাগাতার দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলির ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। সেই বিষয়টি গভীরভবে বিবেচনা করেই এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনগণের আর্থিক বোঝা হ্রাসের লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও নির্বাচনের আগে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ বছরে ছয়টি এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তবে বর্তমান এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পাশাপাশি, সমাজের সব স্তরের মানুষের যাতায়াত সুগম করতে রূপান্তরকামীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাসে ভ্রমণের সুবিধা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, মহিলাদের জন্য প্রচলিত ‘ভেট্রি পায়ানা থিট্টাম’ বা বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের প্রকল্পটির পরিধিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রসারিত এই নতুন ব্যবস্থার ফলে মহিলারা এখন থেকে কেবল সাধারণ বাসের পাশাপাশি এক্সপ্রেস, এলএসএস এবং ডিলাক্স পরিষেবাতেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। এই দারুণ সুবিধা আন্তঃজেলা বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বিজয় স্পষ্ট ভাষায় জানান, মহিলাদের ভ্রমণের এই স্বাধীনতা তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামগ্রিক পারিবারিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

পূর্বে এই বিনামূল্যে ভ্রমণ প্রকল্পের আওতায় মহিলারা শহরাঞ্চলে কেবল সাধারণ এবং পাহাড়ি রুটের বাসে সীমিত দূরত্ব পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। কিন্তু এবার থেকে মেট্রোপলিটন ও শহরাঞ্চলের সরকারি এক্সপ্রেস, এলএসএস, ডিলাক্স এবং শহরতলি এলাকার বাসেও মিলবে এই বিশেষ ছাড়। মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২রা অক্টোবর থেকে এই বড় পরিসরের প্রকল্পের সূচনা করা হবে। সরকারের এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ফলে রাজ্য কোষাগার থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৬,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

অন্যদিকে, চেন্নাইয়ের কাছে পারান্দুরে প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বিধানসভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। উল্লেখ্য, স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। কৃষকদের দেশের প্রকৃত মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে, তাঁর সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পাশেই রয়েছে। নতুন বিমানবন্দরটি এমন একটি স্থানে তৈরি করা উচিত, যেখানে কোনো সাধারণ পরিবারকে বাস্তুচ্যুত হতে হয় না বা বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় না। সরকার বর্তমানে বিমানবন্দরের জন্য বেশ কয়েকটি বিকল্প স্থান খতিয়ে দেখছে। এর পাশাপাশি, চেন্নাইয়ের মিনামবক্কম বিমানবন্দরে একটি নতুন ‘টার্মিনাল ৫’ নির্মাণেরও ঘোষণা করা হয়েছে।