সুসংবাদ! জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে পিপিএফ ও এনএসসি সুদের হারে বড় ঘোষণা, আপনার জমানো টাকার অঙ্ক কত হবে জানেন?

সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের জন্য পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ) এবং ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি)—উভয় জনপ্রিয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিয়ে সুদের হারে কোনো ধরনের কাটছাঁট করা হয়নি। এর ফলে সাধারণ আমানতকারীরা আগের মতো একই সুদের হারে তাঁদের জমানো অর্থ নিরাপদ স্কিমে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

অর্থ মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, এই ত্রৈমাসিকে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)-এর ওপর বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি (NSC)-র ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় সুদ পেতে থাকবেন। সরকারের এই ধারাবাহিক সুদের হার বজায় রাখার নীতি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে যারা কোনো রকম বাজার ঝুঁকি ছাড়াই নিশ্চিত ও নিরাপদ রিটার্ন পেতে চান।

একটি বাস্তবসম্মত আর্থিক হিসাব কষে দেখা যাক ৬ লক্ষ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ ৫ বছরের মেয়াদান্তে কোথায় কত রিটার্ন দিতে পারে। আপনি যদি সম্পূর্ণ ৬ লক্ষ টাকা পিপিএফ (PPF)-এ বিনিয়োগ করেন, তবে ৭.১ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে ৫ বছর পর সেই টাকার পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৮.৪ পক্ষান্তরে, আপনি যদি সেই একই ৬ লক্ষ টাকা এনএসসি (NSC)-তে বিনিয়োগ করেন, তবে বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ সুদের হারে মেয়াদ শেষে আপনার মোট জমানো অর্থ বেড়ে প্রায় ৮.৬৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে। সুদের হারের এই পার্থক্যের কারণে এনএসসি-র ক্ষেত্রে সামান্য বেশি রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এই দুই জনপ্রিয় বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে কেবল সুদের হারের তুলনাই শেষ কথা নয়; এর পাশাপাশি কর সাশ্রয়ের সুবিধা (Tax Benefits) এবং বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমার (Investment Limit) বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিপিএফ-এর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী করমুক্ত আয়ের দারুণ সুবিধা রয়েছে, যা অনেক বিনিয়োগকারীকে আকর্ষিত করে। অন্যদিকে, এনএসসি-র ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক-ইন পিরিয়ড এবং কর কাঠামোর আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। তাই আপনার আর্থিক লক্ষ্য, ট্যাক্স প্ল্যানিং এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সঠিক স্কিমটি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।