রাজ্যে থ্রেট কালচার নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিল বিজেপি! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড় বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে ‘থ্রেট কালচার’, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক চলছে। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই ধরনের বেআইনি ও অপরাধমূলক প্রবণতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা একাধিকবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। খড়গপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একবার সেই একই কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি শোনা গেল রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কণ্ঠে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ পরিষ্কার ভাষায় জানান যে, সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চান বলেই তাঁরা পরিবর্তন এনেছেন এবং বিজেপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সাধারণ মানুষ যেন স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবনযাপন করতে পারেন এবং কেউ যাতে তাঁদের কোনো রকম ভয় বা হুমকি না দেখায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এই প্রসঙ্গে খড়গপুর তথা সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বহিরাগত চোর, ডাকাত ও গুন্ডা-বদমাশরা যেভাবে দাপিয়ে বেড়াত এবং পুলিশ সবকিছু জেনেও দর্শকের ভূমিকা পালন করত, সেই জমানার অবসান ঘটাতে হবে। বর্তমান সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে পুলিশকে সঠিকভাবে পুলিশের মতো কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার বা মাফিয়াদের সহযোগীর মতো আচরণ করলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পুলিশের সক্রিয়তা এবং সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলির সমর্থনে বক্তব্য রেখে মন্ত্রী জানান, পাড়ায় ঢুকে অপরাধীদের তাড়া করে ধরার যে ভিডিও সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বারুইপুরের মতো এনকাউন্টার করতেও পিছপা হবে না প্রশাসন। বিরোধী বা সমালোচকরা অনেকে পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপকে ‘বাড়াবাড়ি’ বলে অভিযোগ তুললেও, মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অপরাধী ও মাফিয়াদের বাড়াবাড়ির চেয়ে পুলিশের এই সক্রিয় পদক্ষেপ অনেক বেশি কাম্য, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন। সমাজের মধ্য থেকে এই ভয়ের সংস্কৃতি বা থ্রেট কালচার চিরতরে মুছে ফেলতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।