টেলিপ্রম্পটার ছাড়া বন্দে মাতরম গাওয়ার চ্যালেঞ্জ! মোদী সরকারকে সরাসরি নিশানা সঞ্জয় রাউতের

বন্দে মাতরম গানটিকে কেন্দ্র করে চলা রাজনৈতিক তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। সম্প্রতি দেশজুড়ে বন্দে মাতরম তর্কের জল গড়িয়েছে বহু দূর, আর ঠিক সেই প্রসঙ্গেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এই বিশিষ্ট নেতা। রাউত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর উচিত টেলিকনুইডার বা টেলিপ্রম্পটার বাদ দিয়ে নিজে সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গানটির ছয়টি শ্লোক গেয়ে দেখানো। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি নেতা জয় শাহ এবং জিতেন্দ্র সিংকেও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় রাউত কটাক্ষের সুরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সাহসের পরিচয় দেন তবে তিনি যেন কোনো সাহায্য ছাড়াই নিজে এই গানটি গান, আর সেক্ষেত্রে তাঁরা সকলেই পিছন থেকে সেই সুরে কণ্ঠ মেলাবেন। আগামী ৯ আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে একটি বিশেষ মঞ্চ প্রস্তুত করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে এসে প্রধানমন্ত্রীর উচিত এই গানটি পরিবেশন করা। শুধু রাজনৈতিক স্লোগান বা বিতর্কের রাজনীতি নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এদিন সরকারকে তুমুল আক্রমণ করেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা।

দেশের বাজারে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের গত বারো বছরের শাসনকালকে কাঠগড়ায় তুলেছেন সঞ্জয় রাউত। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন যে, দীর্ঘ বারো বছরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে আসলে কী ধরনের সদর্থক পরিবর্তন এসেছে? সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, এই শাসনকালে কেবল মৃত্যু, আকস্মিক দুর্ঘটনা এবং সাধারণ মানুষের আত্মহত্যাই সবচেয়ে সস্তা হয়েছে, বাকি প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া।

চিনির উৎপাদন ও ইথানল নীতির প্রসঙ্গ টেনে রাউত বলেন, সরকার বলছে চিনি তৈরির জন্য ব্যবহৃত আখ থেকে নাকি প্রচুর পরিমাণে ইথানল তৈরি হচ্ছে, তবে যদি তাই হয় তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে পর্যাপ্ত চিনি কোথা থেকে আসবে? সরকারের নীতিনির্ধারকদের এই সমস্ত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান প্রজন্মের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে আজকের জেনারেশন জেডের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা অথবা তাদের বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করা।

মহারাষ্ট্রের লাতুরে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর দায়ের করার তীব্র নিন্দা করেছেন সঞ্জয় রাউত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সময়ে যে সমস্ত তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ এবং প্রবীণ নাগরিকরা সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তারা পুলিশের এই ধরনের নামমাত্র এফআইআর বা মামলাকে একটুও ভয় পান না এবং ভবিষ্যতেও পাবেন না। সরকারের দমনমূলক নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যত বেশি প্রশাসন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করার চেষ্টা করবে, তত বেশি নতুন প্রতিবাদী মুখ সাহসিকতার সঙ্গে উঠে আসবে।

ক্ষমতাসীন জোট সরকারের চাপ প্রয়োগের কৌশল যে কোনো কাজ করবে না, সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাউত বলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ যদি মনে করেন এমন ভীতিপ্রদর্শন করে মানুষকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া যাবে, তবে তা তাঁদের ভুল ধারণা। সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা পিছপা হবেন না। হুঁশিয়ারি দিয়ে শিবসেনা নেতা জানান, প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সরাসরি বর্ষা বাংলো এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে নিজেদের জোরালো প্রতিবাদ জানাবেন।