ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি আছে, তবুও বেকার! ৮.৭ কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীতি আয়োগের ভয়ংকর রিপোর্ট

দেশের বিশাল সংখ্যক তরুণ সমাজ শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মাঝখানে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নীতি আয়োগের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি প্রায় ৮ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ-তরুণী পড়াশোনা, চাকরি কিংবা কোনো ধরনের পেশাদারি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন। সরকারি পরিসংখ্যানে এই তরুণদের ‘NEET’ অর্থাৎ এমন একটি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে যাঁরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ—কোনোটিরই মধ্যে নেই। এই পরিসংখ্যানটি ২০২১ সালে পরিচালিত জাতীয় নমুনা সমীক্ষার ৭৮তম পর্বের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
দক্ষতা প্রশিক্ষণে বড় বাধা আর্থিক অনটন
নীতি আয়োগের ‘উন্নত ভারতের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণে নতুন ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যুবকদের দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই তরুণদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অর্থের অভাব। পড়াশোনার পেছনে ইতোমধ্যে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করার কারণে তাঁদের পক্ষে ব্যয়বহুল দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে নারী এবং পিছিয়ে পড়া অংশের যুবকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত বা সাশ্রয়ী মূল্যের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তরুণদের এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে আনা প্রয়োজন, যেখানে তাঁরা শেখার পাশাপাশি উপার্জনের সুযোগও পেতে পারেন।
ডিগ্রি আছে, কিন্তু মিলছে না উপযুক্ত চাকরি
উচ্চশিক্ষা অর্জন করা সত্ত্বেও যুবসমাজ কর্মসংস্থানের বাজারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতক তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পান। এর মূল কারণ হিসেবে ব্যবহারিক শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্র ভিত্তিক প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট থাকলেও বহু তরুণের মধ্যে চাকরির বাজারে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজের ফি এবং জীবনযাত্রার খরচ বহন করার পর অতিরিক্ত খরচ করে দক্ষতা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
স্ব-কর্মসংস্থান ও নতুন দক্ষতার ওপর জোর
পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবল গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং স্ব-কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নীতি আয়োগ। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার জন্য গোটা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৪-১৫ সাল থেকে কোটি কোটি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নাগরিকদের ক্রমাগত নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পরিবর্তিত অর্থনীতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।