যাদবপুর কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিরাট হুঙ্কার: “জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই, কোনও সমঝোতা নয়!”

“যাদবপুরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই, কোনও সমঝোতা হবে না!” সাফ হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: গত বুধবার এসএফআই (SFI) এবং এবিভিপি-র (ABVP) মধ্যে সংঘর্ষে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এ দিন যাদবপুরের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান থেকে এক প্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যাদবপুরে যেভাবেই হোক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কড়া আক্রমণ
এ দিন সভা থেকে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদবপুরে বন্দেমাতরম বলতে দেওয়া হয় না। জাতীয় পতাকা তুলতে দেওয়া হয় না। ১৫ অগাস্ট পালন করে না, সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেওয়া হয় না।” এরপরই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, “তাদের পক্ষ নিয়ে যে যা বলুক, যাদবপুরের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। এই সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নকে পূরণ করতে এসেছে। এই সরকার জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করতে এসেছে। এখানে বন্দেমাতরম, জন গণ মন হবে। এর সঙ্গে কোনও সমঝোতা করব না।”

তাঁর আরও সংযোজন, “যাঁরা যাদবপুর নিয়ে কাঁদছেন তাঁদের বলছি জেনে রাখুন, এই রাজ্যে এই দেশে থাকতে হলে বন্দেমাতরম গাইতে হবে। জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস করবে না এই রাজ্যের সরকার।”

রাজনৈতিক বিরোধীদের একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী
যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ দিন বাম শিবির এবং রাজ্যের শাসক দলের একাংশকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “জামানত জব্দ হওয়া পার্টির লাল বাবুরা, যাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে ডোরিনা ক্রসিং—যাঁরা যাদবপুরের ভিতরে ঢুকে মরা কান্না কাঁদছেন, তাঁদের কোনও সুবিধা হবে না। আর এই খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়া… তৃণমূলের কোনও লাভ হবে না এসব মিডিয়া ট্রায়াল করে।”

পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে শিল্পায়ন না হয়ে কেবল সর্বনাশ হয়েছে এবং বিভিন্ন দুর্নীতিতে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সবমিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।