ভাই-বোনের ঝগড়ায় অতিষ্ঠ? অশান্তি চিরতরে দূর করার এই ৫টি জাদুকরী উপায় জানলে চোখ কপালে উঠবে!

আমাদের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক দৈনন্দিন জীবনে পরিবার এবং সন্তানদের লালন-পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একাধিক সন্তান রয়েছে, সেখানে ভাই-বোনের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মারামারি, কান্নাকাটি এবং বাকবিতণ্ডা একটি নিত্যদিনের ঘটনা। বাবা-মায়ের কাছে এই পরিস্থিতি অনেক সময়ই মানসিক অস্বস্তি ও চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক গবেষক এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে যে, ভাই-বোনের এই দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলেও যদি তা অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছায়, তবে তা সন্তানদের মানসিক বৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক উপায়ে পরিস্থিতি সামাল না দিলে এই ছোট ঝগড়াই বড় হয়ে চিরকালীন বৈরীতায় রূপ নিতে পারে।

সন্তানদের মধ্যকার এই নিত্যদিনের কলহ ও দ্বন্দ্ব চিরতরে দূর করার প্রথম এবং প্রধান উপায় হলো নিরপেক্ষ থাকা। অনেক সময় বাবা-মায়েরাও অজান্তে কোনো এক পক্ষকে বেশি গুরুত্ব বা সমর্থন দিয়ে ফেলেন, যার ফলে অপর সন্তানের মনে হীনম্মন্যতা এবং ঈর্ষার জন্ম হয়। বড় বা ছোট—কাকেই অতিরিক্ত প্রশ্রয় না দিয়ে উভয়ের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাদের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। যখন শিশুরা বুঝতে পারে যে তাদের অভিভাবক সমানভাবে তাদের ভালোবাসছেন এবং শুনছেন, তখন তাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব অনেকটাই কমে যায়।

দ্বিতীয়ত, সন্তানদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য যৌথ কাজের অভ্যাস তৈরি করুন। তাদের ঝগড়ার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে ভাগাভাগির সংস্কৃতি শেখানো প্রয়োজন। অনেক সময় নিজেদের খেলনা বা জিনিসপত্র ভাগ করে নিতে না চাওয়ার কারণেও তীব্র ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এছাড়া, তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তুলনা করা থেকে বিরত থাকুন। এক সন্তানকে অন্য জনের সঙ্গে তুলনা করলে তা ভাই-বোনের সম্পর্কে স্থায়ী ফাটল ধরায়। সঠিক সময়ে ইতিবাচক আলোচনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ শেখানোর মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।