“টার্গেট কাশ্মীরি পণ্ডিতরা! উপত্যকায় নতুন করে জঙ্গি হুমকির নেপথ্যে কোন গভীর রহস্য? উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি ফারুক আবদুল্লার”

জম্মু ও কাশ্মীরে কর্মরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মচারীদের লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক জঙ্গি হুমকির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আবদুল্লা। পুরো ঘটনার নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা ‘রহস্য’ রয়েছে বলে দাবি করে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। এই হুমকির পর প্রশাসনিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শত শত কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে আগামী ২৫ অগস্ট পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
হুমকির নেপথ্যে কোন রহস্য? এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফারুক আবদুল্লা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, উপত্যকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করলেও কেন বারবার নির্দিষ্টভাবে শুধুমাত্র কাশ্মীরি পণ্ডিতদেরই নিশানা করা হচ্ছে? তাঁর সাফ কথা, “কাশ্মীরে এত মানুষ থাকা সত্ত্বেও কেন শুধুমাত্র কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অবিলম্বে খতিয়ে দেখা উচিত এর নেপথ্যে আসল কুশীলবরা কারা। কারা সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য মাধ্যম ব্যবহার করে এই ধরনের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে? আমার দৃঢ় ধারণা, এর মধ্যে কিছু একটা রহস্য রয়েছে।”
উপত্যকায় কড়া নিরাপত্তা ও ছুটির নির্দেশ: প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (LeT) সঙ্গে যুক্ত একটি ফ্রন্ট গ্রুপ বা সংগঠনের নামে হুমকি চিঠি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর প্রকাশ্যে আনা হয়। এর পরই তৎপর হয়ে ওঠে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কর্মসংস্থান প্যাকেজের (PM Special Employment Package) আওতায় উপত্যকায় কর্মরত কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যাঁদের নাম ওই চিঠিতে ছিল, তাঁদের ইতিমধ্যে সুরক্ষিত উপায়ে জম্মুতে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং আগামী ২৫ অগস্ট পর্যন্ত তাঁদের বিশেষ প্রশাসনিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।
অমিত কউল নামে এক কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা আপাতত কাজে যোগ না দেন এবং যাঁদের নিজস্ব বাড়ি উপত্যকায় রয়েছে, তাঁরা যেন ঘর থেকে বাইরে বের না হন। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা একে সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। হুমকির চিঠিটির সত্যতা কতখানি, তা সাইবার সেল ও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি কর্মচারীদের সুরক্ষায় কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের জন্য ২০১০ সালে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্যাকেজের আওতায় প্রায় ৬ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিতকে সরকারি চাকরি দিয়ে কাশ্মীরে ফেরানো হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালেও ধারাবাহিক টার্গেটেড কিলিং বা লক্ষ্যযুক্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে পাঁচজন পণ্ডিত কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই জম্মুতে বদলির দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন কর্মীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশাসন ও উপত্যকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।