অধ্যাপকদের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি? রাজ্যপালের কাছে চিঠি দিয়ে চরম প্রতিবাদের ঝড় তুলল ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়!

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলি সংক্রান্ত বিধান নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাস হওয়া নতুন সংশোধনী বিলের সংশ্লিষ্ট বিধানটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এবার সরাসরি রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের দরবারে কড়া আপত্তি জানাল শিক্ষক সংগঠনগুলি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন (JUTA)-এর নেতৃত্বে কলকাতা, প্রেসিডেন্সি ও রবীন্দ্রভারতী সহ রাজ্যের মোট ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০১ জন অধ্যাপক এই চিঠিতে সই করেছেন।

কী নিয়ে মূলত আপত্তি অধ্যাপকদের?

অধ্যাপকদের মতে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন, বিধি এবং আলাদা নিয়োগ কাঠামো রয়েছে। চাকরির শুরুতে নিয়োগপত্রে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলির কোনো শর্ত সাধারণত থাকে না। কিন্তু নতুন এই বদলি নীতি চালু হলে অধ্যাপকদের কর্মস্থলের নিশ্চিত ও নির্ধারিত নিরাপত্তা সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়বে। জুটার সম্পাদক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, এর আগে আচার্যের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আইনি জটিলতা ও গবেষণার ক্ষতি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা

শুধুমাত্র কর্মস্থল পরিবর্তনই নয়, এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রের ওপর। শিক্ষকদের আশঙ্কা—

  • গবেষণার ক্ষতি: নির্দিষ্ট গবেষণাগার, যন্ত্রপাতি, গ্রন্থাগার এবং গবেষক দলের সমন্বয় ভাঙলে চলমান গবেষণা প্রকল্পের ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

  • পিএইচডি কার্যক্রমে সমস্যা: গবেষক ও গাইড বা তত্ত্বাবধায়কের নিয়মিত যোগাযোগ এবং একই গবেষণা পরিবেশে কাজ করার প্রয়োজন থাকে। দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে বদলি হলে এই প্রক্রিয়া ভীষণভাবে জটিল হয়ে উঠবে।

  • শিক্ষাক্রমের ভারসাম্য নষ্ট: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাদানের পদ্ধতি ও শিক্ষাক্রম রয়েছে। হঠাৎ বদলির জেরে অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রী—উভয় পক্ষকেই অ্যাকাডেমিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

সরকার-বিরোধী মত দমনের আশঙ্কা এবং বিকল্প প্রস্তাব

চিঠিতে আরও একটি অত্যন্ত গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের জোরালো অভিযোগ, এই বদলির বিধানটিকে ভবিষ্যতে সরকার-বিরোধী মত প্রকাশকারী বা প্রতিবাদী অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে ‘শাস্তি দেওয়ার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকি উচ্চপদস্থ মহলের তরফে ইতিমধ্যেই বদলির হুমকির মতো বিষয়ও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পিছিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি অস্বীকার করছেন না শিক্ষকরা। জুটার তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, স্থায়ী বদলি না করে প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ বা এক মাসের স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত অর্থ ও পরিকাঠামো বাড়িয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করার পক্ষেও সওয়াল করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, কর্মস্থলের অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মান ও মেধা ধরে রাখার প্রক্রিয়া বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।