বর্ষার মাঝেই বড় ধাক্কা! নয়ডার ১২৮টি জরাজীর্ণ ফ্ল্যাট খালি করার কড়া নির্দেশ দিল কর্তৃপক্ষ

নয়ডার সেক্টর ৩১-এর সি ব্লকের ১২৮টি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ফ্ল্যাট নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল নয়ডা কর্তৃপক্ষ। একটানা বৃষ্টির কারণে ভবনগুলির বর্তমান বেহাল দশা এবং যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় রেখে ওই ফ্ল্যাটগুলিতে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে অবিলম্বে বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ দল গিয়ে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটগুলিতে নোটিশ লাগিয়ে এসেছে।
ফ্ল্যাটগুলির বেহাল দশা ও বর্ষার বিপদ
রিপোর্ট অনুযায়ী, সেক্টর ৩১-এর সি ব্লকের এই ফ্ল্যাটগুলির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই শোচনীয় ছিল। দেয়াল, বারান্দা এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। বর্তমানে নয়ডায় অবিরাম বৃষ্টির জেরে এই দুর্বল ভবনগুলির ধসে পড়ার বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বহু গুণে বেড়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা এড়াতেই কর্তৃপক্ষ এই ত্বরিত পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
বিপাকে সরকারি কর্মী ও সাধারণ বাসিন্দারা
হঠাৎ করে আসা এই উচ্ছেদের নোটিশের জেরে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলি।
সরকারি কর্মচারীরাও আক্রান্ত: এই জরাজীর্ণ ভবনগুলিতে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নন, বিএসএনএল (BSNL), ডাক বিভাগ এবং পুলিশ বিভাগের মতো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।
বিকল্প বাসস্থানের অভাব: আকস্মিক এই আদেশের ফলে পরিবারগুলি এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ভবনের নিরাপত্তা জরুরি হলেও, ফ্ল্যাট খালি করার নির্দেশ দেওয়ার আগে প্রশাসনের উচিত ছিল তাঁদের পুনর্বাসন বা বিকল্প আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা।
সময়মতো এই ভবনগুলি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ কেন করা হলো না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, নোটিশ জারির পর নয়ডা কর্তৃপক্ষ এই অসহায় পরিবারগুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত কী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে।