প্রেমিকার পেমেন্ট আর পড়াশোনার খরচ উড়েছে সংস্থার ফান্ড থেকে! ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মারাত্মক আর্থিক দুর্নীতি

প্রেমের টানে অন্ধ হয়ে সংস্থার নিয়ম ভেঙে কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ! ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (Gianni Infantino) ঘিরে এক চরম ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফার (UEFA) সাধারণ সচিব থাকাকালীন সংস্থারই এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি—আর এর পরেই নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রেমিকার সমস্ত বিলাসবহুল আবদার ও পড়াশোনার খরচ মেটানো হয়েছিল উয়েফার সরকারি কোষাগার থেকে! ইংল্যান্ডের একটি প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
খবরে প্রকাশ, উয়েফার সাধারণ সচিব পদে থাকাকালীন সেই সংস্থারই এক নারী কর্মীর প্রেমে মজেছিলেন ইনফান্তিনো। এরপর যখন ওই মহিলা কর্মী সংস্থা ছেড়ে চলে যান, তখন তাঁকে বিদায়কালীন সুবিধা হিসেবে ৬ অঙ্কের বিরাট অঙ্কের টাকা পাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, উয়েফা ছাড়ার পর ওই মহিলা যখন বিজনেস স্কুলে এমবিএ (MBA) পড়তে যান, তাঁর সেই পড়ার আকাশছোঁয়া খরচও নাকি মিটিয়েছিল খোদ উয়েফাই!
উয়েফারই এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সাধারণত কোনও কর্মী চাকরি ছাড়লে সংস্থার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী কিছু বিদায়কালীন টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অস্বাভাবিক পরিমাণে ৬ অঙ্কের টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই মহিলাকে। যদিও দুর্নীতির এই জল গড়াতেই নড়েচড়ে বসে উয়েফা। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সেই নিয়মের বদল ঘটানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে এমন স্বেচ্ছাচারিতা না চলে। প্রশ্ন উঠেছে, কার সরাসরি নির্দেশে তৎকালীন সময়ে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা খরচ করা হয়েছিল?
সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ইনফান্তিনো: যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত অভিযোগ কঠোরভাবে খারিজ করে দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার এক দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাফ জানিয়েছেন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক এবং মানহানিকর। ফিফা বা উয়েফার কোনো কর্মী কখনও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ আনেননি। সংস্থার নিয়মনীতি মেনেই যাবতীয় কর্মী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেন করা হয়, এর বাইরে বিন্দুমাত্র অনিয়ম হয়নি বলে দাবি ফিফা শিবিরের।