সংসদের ৩ দিনের আল্টিমেটামের পরেই নাটকীয় পটপরিবর্তন! অবশেষে ক্ষমা চাইলেন মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গ

একাধিক বিতর্কিত ইস্যু, কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণের বড়সড় গলদ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও আচমকা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারত সরকারের চরম চাপের মুখে অবশেষে পিছু হটল সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা (Meta)। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া এই ঘটনার জেরে ভারতে প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও এবং শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদান বা ‘সিএসইএএম’ (CSEAM) ছড়িয়ে পড়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের অভিভাবক সংস্থা মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)।
সংসদের কড়া আল্টিমেটাম ও মন্ত্রকের বৈঠক: বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মেটার আন্তর্জাতিক স্তরের পদস্থ আধিকারিকদের এক উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে এক চরম তিন দিনের আল্টিমেটাম জারি করেছিল। প্যানেলটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও উধাও হওয়ার ঘটনায় জুকারবার্গকে নিজে ক্ষমা চাইতে হবে, নতুবা ভারতে মেটার ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbor) আইনি সুরক্ষা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এই সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হলে মেটা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতে সরাসরি ফৌজদারি মামলা ও এফআইআর (FIR) দায়ের করার রাস্তা খুলে যেত।
টাকা দিয়ে বুস্টিংয়ের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সূত্রে খবর, মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্ম বা ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মেটা যে সমস্ত ভুলত্রুটি করেছে, তা বৈঠকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কন্টেন্টকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার বা ‘বুস্ট’ (Boost) করতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই ধরনের গুরুতর ভুলের জন্য তারা অনুতপ্ত এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
বিবিসি তদন্তের ধাক্কা: সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি আই’ (BBC Eye)-এর একটি বিশেষ তদন্তমূলক রিপোর্টে মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থার নগ্ন রূপ প্রকাশ্যে আসে। ওই রিপোর্টে দেখা যায়, প্রায় ৩০টিরও বেশি বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অবাধে চালানো হচ্ছিল, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদানকে উস্কে দিচ্ছিল। এরপরই নড়েচড়ে বসে ভারতীয় প্রশাসন। সব মিলিয়ে, সংসদীয় প্যানেল ও কেন্দ্রের সাঁড়াশি চাপের মুখে পড়ে মেটার এই নতিস্বীকার প্রযুক্তি মহলে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।