ডিলিমিটেশন বিল পাসে মরিয়া মোদী সরকার! অচলাবস্থা কাটাতে সরাসরি রাহুলের দপ্তরে হাজির কিরেন রিজিজু

সংসদে চলা দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানো এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিলিমিটেশন বিল (সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল) ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে বড়সড় উদ্যোগ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বুধবার সংসদ ভবনে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও।
চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলির লাগাতার বিক্ষোভ ও হট্টগোলের জেরে সংসদের কাজ কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এই আবহে সংসদের অন্দরে সমঝোতার সূত্র খুঁজতে আসরে নেমেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।
কী চাইছে কেন্দ্র এবং কংগ্রেসের অবস্থান কী? সরকারি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ১৬ থেকে ১৮ অগস্ট পর্যন্ত লোকসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বহুল চর্চিত ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। যেহেতু এই সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পাশ করার জন্য সংসদের উভয়কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন, তাই সমস্ত বিরোধী দলের সঙ্গে সর্বসম্মত মত গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে শাসক শিবির।
বুধবারের বৈঠকে কিরেন রিজিজু সরাসরি এই বিলগুলির বিষয়ে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চান এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান। তবে কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিলের একাধিক খুঁটিনাটি দিক ও আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল। বিরোধীদের পরিষ্কার বার্তা, সরকারের প্রস্তাবিত নীতির কয়েকটি ত্রুটি ও উদ্বেগের সমাধান না হলে বর্তমান অবস্থায় এই বিলকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানানো সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিলের সমান্তরালেই নিট (NEET) আন্দোলন, ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক-সহ একাধিক জনমুখী ও সংবেদনশীল ইস্যুতে সংসদ চত্বরে সরব রয়েছে বিরোধী শিবির। সব মিলিয়ে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে।