‘পুরো সিস্টেম তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে!’ ব্রিজ ভূষণ খালাস পেতেই ক্ষোভে ফেটলেন ভিনেশ ফোগাট ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী!

মহিলা কুস্তিগীরদের আনীত চাঞ্চল্যকর যৌন হয়রানির মামলায় ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং অত্যন্ত স্বস্তিজনক রায় পেয়েছেন। দীর্ঘ আইনি লড়ায়ের পর দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত প্রমাণের অভাবে তাঁকে এই গুরুতর অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে খালাস ঘোষণা করেছে। আদালতের এই রায়ের পর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং এটিকে তাঁর সত্যতার এক বড় এবং ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এই রায়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে বিশিষ্ট মহিলা কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাট এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বর্তমান সরকার ও বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না এবং তাঁরা উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ছয়জন শীর্ষস্থানীয় মহিলা কুস্তিগীরের করা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যে অভিযোগকারীদের তালিকায় অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাটের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কুস্তিগীরদের আনা এই অভিযোগে ক্ষমতার অপব্যবহার ও হেনস্থার মতো চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে এসেছিল। আদালতের রায়ের পর ভিনেশ ফোগাট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি সুদীর্ঘ এবং আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, “শাসক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এফআইআর দায়ের করার জন্য আমাদের বুকভরা সাহস এবং দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছিল। ব্রিজ ভূষণ তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে বহু মহিলা কুস্তিগীরকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করেছিলেন।”

ভিনেশ ফোগাট আরও অভিযোগ করেন যে, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মহিলা কুস্তিগীররা আইনি লড়াইয়ে অনড় ছিলেন। কিন্তু আদালত কর্তৃক ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী সাব্যস্ত না করায় তাঁরা অত্যন্ত মর্মাহত ও হতাশ। বিচারব্যবস্থাকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই মনে হয়েছিল পুরো শাসনতন্ত্র, সরকার এবং প্রশাসনিক কাঠামো গোপনে ব্রিজ ভূষণকে রক্ষা করার জন্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছিল।” মহিলা কুস্তিগীররা ইতিমধ্যেই তাঁদের আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে দ্রুত আপিল করা হয়।

এদিকে, এই মামলার অপর অভিযুক্ত এবং তৎকালীন ডব্লিউএফআই-এর সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমরকেও আদালত এই মামলায় সম্পূর্ণ খালাস দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “প্রথমত, আদালত স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছে যে আমি এবং বিনোদ তোমর সম্পূর্ণ সম্মানের সাথে খালাস পেয়েছি। আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম যে আমার বিরুদ্ধে যদি একটিও অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আমি স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বেছে নেব। আজ আদালত আমাদের সসম্মানে অব্যাহতি দিয়েছে, যা আমার ও আমার অগণিত সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত।” অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরকারের মহিলা সুরক্ষার দাবিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন যে, একদিকে সরকার নারী শক্তির কথা বলে, অথচ অন্যদিকে বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত।