আগামীকাল থেকেই রাজ্যে শুরু ঐতিহাসিক জনগণনা! কীভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপে নিজেই পূরণ করবেন ৩৪টি প্রশ্নের ফর্ম?

আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার, ১ অগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে बहुপ্রতীক্ষিত জনগণনা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই প্রথম রাজ্যে চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি তথা ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ বা স্ব-শুমারির ব্যবস্থা। এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন থেকে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে নিজেই নিজের সমস্ত তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। তবে অনлайনের পাশাপাশি প্রথাগত অফলাইন পদ্ধতিতেও জনগণনার কাজ সমান্তরালভাবে পরিচালিত হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। ডিজিটাল বা ম্যানুয়াল—উভয় মাধ্যমেই নির্ভুল তথ্য দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে শুরু করে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলবে অনলাইন বা স্ব-শুমারির প্রক্রিয়া। এরপর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে অফলাইনে জনগণনার কাজ পরিচালনা করবেন নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অনলাইনে স্ব-শুমারি সম্পন্ন করার জন্য নাগরিকদের নির্দিষ্ট পোর্টাল se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে। সেখানে ধাপে ধাপে সাতটি পর্যায়ে মোট ৩৪টি প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে হবে। গৃহকর্তার নাম, মোবাইল নম্বর, সম্পূর্ণ ঠিকানা ও পিনকোড থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য এই ফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জনগণনার এই ফর্মটিতে মূলত সাতটি প্রধান বিভাগে মোট ৩৪টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির সামগ্রিক অবস্থা, দেওয়াল, মেঝে ও ছাদের তৈরির উপাদান এবং বাড়িটি আবাসিক না অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তার বিবরণ। পাশাপাশি পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা, প্রধান ব্যক্তির লিঙ্গ, সামাজিক শ্রেণি (এসসি, এসটি বা অন্যান্য), বাড়ির মালিকানা, ঘরের সংখ্যা এবং বিবাহিত দম্পতির হিসাব দিতে হবে। এছাড়া পানীয় জলের উৎস, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, শৌচাগার ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা, রান্নাঘর এবং রান্নার জ্বালানির মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার তথ্যও চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিজিটাল যুগে নাগরিকদের প্রযুক্তিগত ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করতে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু আধুনিক বৈদ্যুতিন সম্পদ ও যাতায়াতের বাহনের তথ্য। বাড়িতে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, স্মার্টফোন, সাইকেল, স্কুটার কিংবা চার চাকার গাড়ি রয়েছে কি না, তা পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। এমনকি পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য এবং যোগাযোগের জন্য বৈধ মোবাইল নম্বরও আবশ্যিক। অনলাইন সাবমিশনের পর একটি বিশেষ ওটিপি (OTP) ও স্বীকৃতি কোড পাওয়া যাবে, যা সফলভাবে জনগণনা সম্পন্ন হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।