ফোন ট্যাপ থেকে মানসিক হেনস্তা! পুলিশ ব্যান্ডের দুই তারকা গায়িকার অভিযোগে চরম শোরগোল

হিমাচল প্রদেশ পুলিশের বিখ্যাত অর্কেস্ট্রা ব্যান্ড ‘হারমনি অফ দ্য পাইন্স’ (Harmony of the Pines) ফের একবার বড়সড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এবার এই ব্যান্ডের দুই স্বনামধন্য মহিলা গায়িকা তথা কনস্টেবল দীপিকা ঠাকুর এবং কৃতিকা তনওয়ার সিআইডির এক এসপির বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ এনে সরাসরি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের এই বিস্ফোরক পদক্ষেপের জেরে গোটা পুলিশ বিভাগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

মূলত, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ওই ব্যান্ডেরই প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমানে বরখাস্ত হওয়া সাব-ইন্সপেক্টর বিজয় কুমারের সাম্প্রতিক বরখাস্তের প্রসঙ্গটি। ব্যান্ডে যুক্ত দুই গায়িকা দীপিকা ও কৃতিকা তাঁদের লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন যে, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের মানহানি, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, গভীর ষড়যন্ত্র এবং ব্যক্তিগত মর্যাদায় আঘাত হানার মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর হাতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্রের একটি কপি এসেছে।

অভিযোগকারী দুই মহিলা পুলিশকর্মী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বিভাগের এক এসপি তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রেখেছেন। বরখাস্ত হওয়া ইন্সপেক্টর বিজয় কুমারের সঙ্গে যাতে পুলিশ অর্কেস্ট্রার কোনো সদস্যই কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখেন, তার জন্য তাঁদের ওপর বারবার কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে নজরদারি চালানো হতে পারে, গতিবিধি ট্র্যাক করা হতে পারে এবং ফোনালাপ রেকর্ড করা হতে পারে বলে পরোক্ষ হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তাঁদের মনে প্রবল ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, যা তাঁদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সরাসরি লঙ্ঘন।

নিজেদের কর্মজীবনের উজ্জ্বল ট্র্যাক রেকর্ডের কথা তুলে ধরে দুই গায়িকা জানিয়েছেন যে, তাঁরা এর আগে ‘হুনরবাজ–দেশ কি শান’, গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং রাজ্যজুড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চে হিমাচল পুলিশকে সফলভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমনকি সম্প্রতি তাঁরা রাজ্য সরকারের মাদকবিরোধী জনসচেতনতা অভিযানেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। বিচার পাওয়ার আশায় তাঁরা এই অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি জাতীয় মহিলা কমিশন এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের দপ্তরেও পাঠিয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সামান্য ৬ হাজার টাকা আয় সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই ‘হারমনি অফ দ্য পাইন্স’ ব্যান্ডের প্রধান ইন্সপেক্টর বিজয় কুমারকে প্রথমে বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদিও অভিযুক্ত বিজয় কুমারের দাবি, তিনি ওই অর্জিত অর্থ আগেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিভাগে জমা করে দিয়েছিলেন। এই অন্যায় বরখাস্তের বিরুদ্ধে তিনি ইতিমধ্যে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিমাচল প্রদেশ পুলিশের অন্দরের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে জোরদার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।