গাড়ির সামনে হঠাৎ সাক্ষাৎ যম! ভিলওয়ারার জনবসতিতে চিতাবাঘের অবাধ বিচরণে কাঁপছে গোটা গ্রাম

রাজস্থানের ভিলওয়াড়া জেলার বিজয়নগর এলাকার অন্তর্গত লক্ষ্মী নিবাস গ্রামে চিতাবাঘের আতঙ্ক দিন দিন এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। বিগত কয়েকদিন ধরে চলা এই বন্য পশুর অবাধ বিচরণে গোটা গ্রামবাসীর রাতের ঘুম উড়ে গেছে। মাত্র একদিন আগেই গ্রামের একটি গরুর বাছুরকে নির্মমভাবে হত্যা করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটিয়েছিল এই চিতাবাঘটি। ঠিক তার পরের দিনই জনবসতিপূর্ণ এলাকার অত্যন্ত কাছের একটি খামারের সীমানা প্রাচীরের উপর চিতাবাঘটিকে একেবারে নির্ভয়ে ও দম্ভের সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। এই একের পর এক রোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ধ্যা নামলেই গ্রামবাসীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না এবং সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে। লক্ষ্মী নিবাস গ্রামের বাসিন্দা অনিল ধাকাড় তাঁর সপরিবারে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই তাঁদের গাড়ির সামনে নজরে আসে এক অবর্ণনীয় দৃশ্য। রাস্তার পাশের একটি খামারের সীমানা প্রাচীরের উপর শান্তভাবে বসে রয়েছে একটি পূর্ণবয়স্ক শক্তিশালী চিতাবাঘ। হঠাৎ করে চোখের সামনে এই হিংস্র বন্য পশুকে দেখতে পেয়ে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান অনিলবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ভয়ে তাঁদের রক্তিম মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং বুক কেঁপে ওঠে।
তবে চরম বিপদের মুখেও অনিল ধাকাড় অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন। তিনি ঘাবড়ে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি থামিয়ে দেন এবং দ্রুত হেডলাইট নিভিয়ে দেন। এরপর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি অত্যন্ত সাবধানে গাড়িটি রিভার্স করতে শুরু করেন। এদিকে চিতাবাঘটি প্রাচীরের ওপর বসে থাকলেও পরিবারের সদস্যরা গাড়ির জানালার কাঁচ তুলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে তাদের মোবাইল ফোনে পুরো দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন। কিছু সময় ধরে খামারের প্রাচীরের ওপর রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে থাকার পর অবশেষে চিতাবাঘটি আস্তে আস্তে প্রাচীর থেকে নেমে সংলগ্ন অন্ধকার মাঠের দিকে মিলিয়ে যায়।
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জনবসতির এত কাছে চিতাবাঘের এই সশরীরে উপস্থিতি গ্রামবাসীদের উদ্বেগ বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত সোমবার যে চিতাবাঘটি একটি অবলা গরুর বাছুরকে খুবলে খেয়ে মেরে ফেলেছিল, এটি নিশ্চিতভাবেই সেই একই হিংস্র প্রাণী। লোকালয়ের এত কাছাকাছি বন্য পশুর নিয়মিত আনাগোনা প্রমাণ করে যে, তাদের জীবন ও সম্পত্তি এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষ্মী নিবাস গ্রামের অলিতে-গলিতে এক ভীতিপ্রদ নিস্তব্ধতা নেমে আসে। অভিভাবকরা তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাড়ির বাইরে একা ছাড়তে চরমভাবে দ্বিধাবোধ করছেন।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, বড় ধরনের কোনো মারাত্মক দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন বন কর্মীরা দ্রুত এই চিতাবাঘটিকে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে নিরাপদে ধরে নিয়ে যান। বিকল্প হিসেবে ওই এলাকায় দ্রুত একটি লোহার খাঁচা স্থাপনের দাবিও জানানো হয়েছে, যাতে গ্রামের মানুষ ফের স্বাভাবিক ও ভীতিহীন জীবন ফিরে পেতে পারেন।