হিমাচলের বিখ্যাত মন্দিরে আর্থিক দুর্নীতির পাহাড়! মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের বাঁচাতে তৎপর সরকার?

হিমাচল প্রদেশের উনা জেলার বিশ্ববিখ্যাত শ্রী মাতা চিন্তপূর্ণী মন্দিরের ‘সুগম পাস’ সংক্রান্ত কথিত আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি করেছে। মন্দির প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করলেও, মূল অভিযুক্তরা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে দাবি তুলেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে তদন্তের শ্লথ গতি এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে শাসক শিবিরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিরোধী দল।
বুধবার চিন্তপূর্ণীতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক বলবীর চৌধুরী এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন যে, এই দুর্নীতি মামলায় যাদের নাম জড়িয়েছে, তারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোক। আর সেই কারণেই পুলিশ মামলা দায়ের করার পর আর কোনো ठोस পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পুরো কেলেঙ্কারিটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার প্রত্যক্ষভাবে মদৎ জুগিয়ে চলেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি অবিলম্বে পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চ-পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্তের জোরালো দাবি জানান। বলবীর চৌধুরী বলেন যে, বিগত বছরগুলির সমস্ত আর্থিক নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হলে আরও বহু চাঞ্চল্যকর ও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের তথ্য ফাঁস হতে পারে।
স্মরণ করা যেতে পারে যে, মন্দিরে যখন এই সুগম দর্শন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেই প্রথম দিন থেকেই বিজেপি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্দির প্রশাসনের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তাতে বিজেপির সেই আশঙ্কা সম্পূর্ণ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে যে, গত ১৯ জুনের রেকর্ডে বেশ কিছু অত্যন্ত সন্দেহজনক ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন হয়েছে। যেখানে একই ট্রানজ্যাকশন আইডি এবং একটিমাত্র মোবাইল নম্বরের বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তদন্তের অগ্রগতি পুরোপুরি থমকে গেছে।
প্রাক্তন বিধায়ক আরও জানান যে, মন্দিরে আগেভাগে ও ভিআইপি দর্শনের জন্য প্রতিটি পাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১০০ টাকা, যা দিয়ে একসঙ্গে পাঁচজন পুণ্যার্থী দর্শন করতে পারেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র একটিমাত্র মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পাইকারি হারে প্রায় ৮০টি পাস ইস্যু করা হয়েছিল, যা নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় মূল ভূমিকা পালনকারী প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে আড়াল করার জন্য রাজ্য প্রশাসন কেবল নামমাত্র তদন্তের আনুষ্ঠানিকতা চালাচ্ছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই সমস্ত রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে উত্তর ভারতের অন্যতম ধনী মুখ্যমন্ত্রী সুখু এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছেন যে, তার ব্যক্তিগত সম্পদ বিগত দিনে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে এবং বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন যে প্রয়োজন হলে এই দুর্নীতির অভিযোগ ইডি (জব্দ ও অর্থ তছরুপ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা) দিয়ে তদন্ত করানো হোক। তবে বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, তারা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে এবং প্রকৃত দোষীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে আন্দোলন থামাবে না।