বন্ধ বা অলস পড়ে থাকা PF অ্যাকাউন্টের দিন শেষ! ঘরে বসেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে জমানো টাকা

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় (Dormant) হয়ে পড়ে থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF)-এর টাকা তোলার নিয়মে আসছে বিরাট বদল। এবার আর বকেয়া অর্থ বা জমা টাকা তোলার জন্য আলাদা করে আবেদন জানাতে হবে না গ্রাহকদের। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের এক অভিনব উদ্যোগে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই টাকা পৌঁছে যাবে গ্রাহকের অ্যাক্টিভ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

‘The Hindu BusinessLine’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) ইতিমধ্যেই তাদের পাইলট প্রজেক্টের অধীনে ১.১৮ লক্ষ গ্রাহকের তথ্য সফলভাবে যাচাই করে তাঁদের সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলেই বকেয়া অর্থ ও প্রাপ্য সুদ সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

“নতুন ‘System-generated Claim’ ব্যবস্থার মাধ্যমে EPFO নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লেম তৈরি করবে। ফলে গ্রাহককে কোনো ম্যানুয়াল বা অনলাইন আবেদন করতে হবে না।”

প্রতিবেদনটির মূল গুরুত্ব ও বিশেষত্ব:

  • ৭.১১ লক্ষ অলস অ্যাকাউন্ট দিয়ে সূচনা: প্রথম দফায় ১,০০০ টাকা বা তার কম ব্যালেন্স থাকা ৭.১১ লক্ষ নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টকে এই পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আনা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ৩০.৫২ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।

  • ‘পেনি ড্রপ’ পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই: অফিসিয়াল তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলির সঠিক ব্যাঙ্কিং তথ্য নিশ্চিত করতে ‘পেনি ড্রপ’ (Penny Drop) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মৃত গ্রাহকদের নথিও ব্যাঙ্কের তথ্যের ভিত্তিতে আপডেট করা হয়েছে।

  • প্রযুক্তি সংস্কার ও EPFO 2.0: ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN)-এর ওপর ভিত্তি করে পুরো ডিজিটাল পরিকাঠামো আপগ্রেড করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং’ (C-DAC)-কে।

  • কবে থেকে শুরু হতে পারে? মন্ত্রক সূত্রে খবর, অগাস্টের শেষ নাগাদ সফটওয়্যার সংযুক্তিকরণের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। এর পরপরই টাকা পাঠানোর স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পিএফ অ্যাকাউন্টে টানা ৩৬ মাস কোনো টাকা জমা না পড়লে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ হিসেবে ধরে নেওয়া হয় এবং তাতে সুদ প্রদানও বন্ধ হয়ে যায়। শ্রম মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই দশকে প্রায় ৩১.৮৬ লক্ষ এমন নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০,৯০৩ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকৃত হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতেই সরকার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।