জয়নগরে বৃদ্ধাকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ! কলাবাগান থেকে উদ্ধার অচৈতন্য দেহ, চাঞ্চল্য এলাকায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকায় এক বৃদ্ধাকে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নির্যাতিতা বৃদ্ধাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পিছনের একটি কলাবাগানে মোচা কাটতে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। অভিযোগ উঠেছে, সেই নির্জন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে একা পেয়ে যৌন নিগ্রহ করে। বৃদ্ধা চিৎকার শুরু করায় আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে আসেন। তবে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে বৃদ্ধা বাড়িতে ফিরে না আসায় তাঁর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাঁর জামাই বাড়িতে ফিরে চারপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পিছনের কলাবাগানে অচৈতন্য অবস্থায় বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা পুলিশের সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দ জানান যে, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এক সন্দেহভাজনকে আটক করে তদন্তকারীরা দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ঘটনার সমস্ত দিক অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে আরও কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে যে, নির্যাতিতা বৃদ্ধার বয়ান ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে এবং সেই গোপন জবানবন্দির ভিত্তিতেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই এক যুবককে সন্দেহের বশে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সন্ধ্যার পর ওই কলাবাগান চত্বরে প্রায় প্রতিদিনই অবৈধভাবে নেশার আসর বসে এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। স্থানীয়দের দাবি, এই বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের নজর আকর্ষণ করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এলাকার এক বাসিন্দা তাপস দাস বলেন, “এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং ন্যক্কারজনক। আমরা চাই, শুধু এই নির্দিষ্ট ঘটনার অভিযুক্তই নয়, বরং এলাকায় যারা এই ধরনের অপরাধমূলক পরিবেশ তৈরি করে চলেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”