“হিংসা ছাড়া শক্তি, অন্ধ আনুগত্য ছাড়া দেশপ্রেম!” জেন-জি প্রজন্মকে কুর্নিশ সোনম-পত্নী গীতাঞ্জলির

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের কাছে কেন্দ্রের নতি স্বীকার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি স্বাগত জানালেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তাঁর মতে, কেবল মন্ত্রীর পদত্যাগেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হয় না; প্রকৃত দেশ গড়তে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা জরুরি। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মের এই অদম্য সাহসিকতা ও লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁর স্ত্রী তথা সমাজকর্মী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো।
শনিবার সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেন, “সরকার ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের গৃহীত পদক্ষেপকে আমি স্বাগত ও সম্মান জানাই এবং দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই। আজ আমরা গণতন্ত্রের জয় দেখলাম। আমি সিজেপি-কে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই, যারা সর্বপ্রথম এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। সেই সঙ্গে, তাদের সমর্থনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের এবং দেশজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানো ছাত্র, যুব ও প্রবীণদেরও ধন্যবাদ জানাই।” আন্দোলনের সময় শান্তি বজায় রাখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, আমরা এই শান্তি বজায় রাখব এবং ভবিষ্যতে কোথাও কোনও অন্যায় ঘটবে না। আমাদের সংস্কারের জন্য কাজ করতে হবে। শুধু পদত্যাগ করলেই একটা দেশ গঠিত হয় না। শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন।”
জেন-জি প্রজন্মকে কুর্নিশ গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোর
এই গোটা ছাত্র আন্দোলনের সময় সোনম ওয়াংচুকের পাশেই অগ্রভাগে লড়তে দেখা গিয়েছিল তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর নিজের এক্স (Twitter) হ্যান্ডলে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে প্রকৃত ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার অর্থ কী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রায়শই ব্যবহৃত ‘বিশ্বগুরু’ শব্দটিকে সামনে রেখেই তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতার প্রশংসা করে গীতাঞ্জলি লেখেন, “তাঁরা সনাতন ধর্ম প্রচার করেননি, বরং তা পালন করেছেন। ঘৃণা ছাড়া সাহস। হিংসা ছাড়া শক্তি। অন্ধ আনুগত্য ছাড়া দেশপ্রেম।” জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের এই অহিংস, সৎ এবং সাহসিকতাপূর্ণ আন্দোলনের সুবাদেই যে দেশের রাজনীতি ও শিক্ষানীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল, তা তাঁদের এই প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট।