ইস্তফা দেবেন না ধর্মেন্দ্র প্রধান? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে জট অব্যাহত!

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ঘিরে তরজা তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্র মারফত স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্ভবত পদত্যাগ করছেন না। ইস্তফা দেওয়াকে একপ্রকার ‘দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলা’ হিসেবেই দেখছে সরকার ও খোদ শিক্ষামন্ত্রী। ফলে এই মুহূর্তে পদত্যাগের প্রশ্নই উঠছে না বলে খবর। তবে এর মাঝেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাধিক দাবিতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

নিট (NEET) দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের জেরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে পরবর্তীতে সামিল হন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

এই আন্দোলনের জট কাটাতে শুক্রবার দিল্লির সংবিধান ক্লাবে সিজেপি (CJP) প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী ম্যারাথন বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।

বৈঠক শেষে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান:

“আমরা ৩টি মূল দাবি এবং ৫টি শিক্ষাসংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে নিহত পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হেনস্থা বন্ধের দাবিতে তাঁদের সায় মিলেছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা আমাদের প্রধান ও ‘নন-নেগোশিয়েবল’ দাবি।”

জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল।

রাজনীতির অন্দরে চাপানউতোর

এদিকে, CJP-র এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে একাধিক বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারাও CJP-র এই ইস্যুকে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে, সরকার পক্ষ অনমনীয় থাকায় এবং CJP তাদের প্রধান দাবি থেকে এক ইঞ্চিও না সরার ঘোষণা দেওয়ায়, আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন মোড় নেয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।