২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বিস্ফোরক ঋতব্রত! কোন গোপন তথ্য ফাঁস করে দলীয় কেলেঙ্কারির তুলকালাম বাঁধালেন নেতা?

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের দলের কর্মীরা হিংসার শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই রক্তাক্ত হয়েছেন। তাঁর নির্দিষ্ট দাবি, মহেশতলায় বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি বাস না বার করার জন্য প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ঘটনায় থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও হুংকার ছাড়েন তিনি।

বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপি যদি মনে করে রক্তচক্ষু দেখিয়ে আমাদের ঠেকাবে, তাহলে তারা ভীষণ ভুল করছে।” একই সঙ্গে দলের একাংশকে নিশানা করে তিনি অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “শহিদ দিবস কোনও রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, শহিদ দিবস কোনও ক্যাটওয়াকের মঞ্চও নয়। বাস থেকে নামিয়ে সেলিব্রিটিদের নিয়ে মঞ্চ আলোকিত করার জায়গা এটি নয়। যারা প্রতিদিন রাস্তায় নেমে লড়াই করেন, তাঁরা তাঁদের আসল প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি উদ্দেশ করে বেশ কিছু স্পর্শকাতর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এই নেতা। তাঁর জোরালো দাবি, কেন এখনও একুশে জুলাইয়ের পুলিশি গুলিকাণ্ডের কমিশন রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা হলো না? মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানতে চান, তৎকালীন ওই আন্দোলনে কেন গুলি চালাতে হয়েছিল এবং কেন একের পর এক কমিশনের রিপোর্ট বরাবর আড়াল করে রাখা হয়েছে? বর্তমান প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্ট ঘিরেও একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দলের অভ্যন্তরীণ আর্থিক হিসাব এবং তহবিলের প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত বিস্ফোরক দাবি করেন যে, দলের তহবিলে এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে এবং সেই বিশাল অর্থের সুদের টাকাই কর্মীদের সহায়তার জন্য যথেষ্ট। তাঁর দাবি, প্রায় এক হাজার কোটিরও বেশি টাকার সুদের সঠিক হিসাব সামনে রেখে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি তিনি বড় ঘোষণা করে জানান যে, ওই সমস্ত অর্থ হাতে এলে একুশে জুলাইয়ের প্রতিটি শহিদ পরিবারকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন যে, প্রতি তিন মাস অন্তর দল কোথায় কত টাকা খরচ করছে, তার স্পষ্ট হিসাব যেন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তাঁর আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, দলের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে গোপনে ১৬০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে তিনি এক প্রতীকী ও রূপক মন্তব্য করে বলেন, “বাঘ ডিম খায় না, বাঘরোল ডিম খায়।” শহিদ দিবসের ঠিক প্রাক্কালে নেতার এই ধরনের প্রকাশ্য সমালোচনা ও বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন তৃণমূলের অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।