“২৪ বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!”-জাপানের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয়, বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল

সোমবার রাতে বিশ্বকাপের নক-আউট মঞ্চে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। প্রথমার্ধে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরল ব্রাজিল। প্রায় ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নক-আউটে এমন ‘কামব্যাক’ জয় পেল হলুদ জার্সিধারীরা। এই সাফল্যের পরই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন, ২০০২ সালের ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে ২০২৬-এ?

শুরুটা ছিল হতাশাজনক ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ আড়ষ্ট। নেইমার বিহীন ব্রাজিলকে এদিন চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, জাপান শুরু থেকেই ছিল সুসংগঠিত। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাইশো সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জাপান, যা সেলেসাও সমর্থকদের মনে দুশ্চিন্তার মেঘ তৈরি করেছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের পাল্টা আক্রমণ বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্রাজিলকে দেখা গেল। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর গোল সমতায় ফেরায় দলকে। এরপর থেকেই জাপানি রক্ষণভাগের ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করতে থাকে ব্রাজিল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় তারা। অবশেষে বদলি খেলোয়াড় গাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির নাটকীয় গোল ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিলের।

২০০২-এর সেই স্মৃতি পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে নক-আউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতেছিল ব্রাজিল। মজার বিষয় হলো, সেবারই কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলেছিল রোনালদো-রিভালদোর দল। সোমবারের এই জয়ের পর ফ্যানেরা মনে করছেন, ২০০২ সালের সেই ‘লাকি চার্ম’ ২০২৬-এও কাজ করতে পারে।

ফ্যানেদের আশা তুঙ্গে ম্যাচের প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল দেখে যারা হতাশ হয়েছিলেন, দ্বিতীয়ার্থের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে তারাই এখন আত্মবিশ্বাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ২০০২ ও ২০২৬-এর মধ্যে তুলনা। ফ্যানেদের দাবি, পিছিয়ে পড়েও এভাবে ম্যাচ জেতার মানসিকতা বড় ট্রফি জয়ের ইঙ্গিত দেয়।

এখন দেখার বিষয়, নেইমারকে ছাড়াই ব্রাজিলের এই অপরাজেয় জেদ তাদের শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করতে পারে কি না।