বিয়ের আগে লিভ-ইন করা বাধ্যতামূলক? জিনাত আমানের মন্তব্যে তোলপাড় বলিপাড়া!

বলিউডের চিরসবুজ এবং ছকভাঙা ব্যক্তিত্ব জিনাত আমান মানেই সাহসিকতা। সাত ও আটের দশকের রূপোলি পর্দার এই তারকা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক তাঁর স্পষ্টবাদী মানসিকতার জন্য। সম্প্রতি বিয়ে ও লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়ে দেওয়া তাঁর একটি সাক্ষাৎকার বিনোদন জগতে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। জিনাতের সাফ কথা—সাতপাকে বাঁধা পড়ার আগে কাপলদের একে অপরের সঙ্গে লিভ-ইন করা অত্যন্ত জরুরি। হুট করে বিয়ে করার চেয়ে সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক ও দৈনন্দিন জীবনের সামঞ্জস্য যাচাই করাকেই তিনি বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন।
কেন এই অবস্থান?
জিনাতের এই মন্তব্য নতুন নয়। অতীতে লিভ-ইন নিয়ে মুখ খোলায় মুমতাজ এবং সায়রা বানুর মতো সমসাময়িক অভিনেত্রীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের অবস্থানে তিনি অনড়। জিনাতের মতে, আজকের দিনে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। বিয়ের প্রথম দিকের রোম্যান্সের ঘোর কেটে গেলেই বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন প্রতিনিয়ত আপস ও অ্যাডজাস্টমেন্ট। জিনাত প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দুজনের চিন্তাধারায় মিলই না থাকে, তবে ১৫ বছর অশান্তির সংসারে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচার চেয়ে ৫ বছর সুখে থাকা কি অনেক ভালো নয়?”
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দর্পণ:
এই বাস্তববোধ জিনাত একদিনে অর্জন করেননি। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে আজ এত স্পষ্টবক্তা করে তুলেছে। সঞ্জয় খানের সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক জীবনের তিক্ততা, হোটেলের ঘরে শারীরিক নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং পরে মাজহার খানকে বিয়ে করেও শান্তি না পাওয়ার সেই ক্ষতগুলো তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর প্রতারণা ও নানাবিধ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া জিনাত মনে করেন, অন্ধ আবেগের চেয়ে বাস্তব বিচার অনেক বেশি কার্যকর।
তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, নিজের ছেলেদেরও পরামর্শ দিয়েছেন—বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন তাঁরা পার্টনারের সঙ্গে লিভ-ইন করে সবটা যাচাই করে নেয়। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আর্থিক বিষয় কিংবা সন্তান মানুষ করার ভাবনা—এই বিষয়গুলোতে দুজনের মানসিক মিল থাকা একান্ত প্রয়োজন। জিনাত আমানের এই সাহসী জীবনবোধ প্রথাগত সমাজব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।