অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়ার ‘মাস্টারমাইন্ড’ অদিতি? সিআইডির নজরে কোন রহস্য?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজে হুমকি মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্ত এবার মোড় নিল এক নতুন দিকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে হানা দিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। অভিষেকের অনলাইন প্রচারের মূল দায়িত্বে থাকা অদিতি গায়েনের খোঁজে এই তল্লাশি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা।

কেন এই হানা? সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ২৯/ডি নম্বরের একটি আবাসনে পৌঁছান ৮-১০ জনের সিআইডি প্রতিনিধি দল। উল্লেখ্য, এই আবাসনেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রীর ছোট বোন, অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট পিসি। তাঁর মেয়ে অদিতি গায়েনই সিআইডির নিশানায়।

অদিতি গায়েন কে? তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং অনলাইন প্রচারের নেপথ্যে রয়েছেন অদিতি। তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ডিজিটাল প্রচার এবং বক্তৃতার বিষয়বস্তু পরিচালনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে কী উঠে এল? নির্বাচনী প্রচার পর্বে ডিজে হুমকি মামলার জেরে ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা সাড়ে ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরই সিআইডির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আবাসনে পৌঁছে অদিতির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলেন আধিকারিকরা। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে অভিষেকের হয়ে করা পোস্ট এবং সেখানে ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত কোনো আপত্তিকর তথ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: এই তল্লাশি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ডিজে মন্তব্য যদি ভুলই হয়ে থাকে, তবে তা নির্বাচনের সময় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এত সময় পর সিআইডির এই তত্পরতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার তাঁর ডিজিটাল প্রচারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিআইডি তলব করা—পুরো বিষয়টিই তদন্তে নতুন কোনো বড় মোড় আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।