হোয়াটসঅ্যাপ থাকল, টেলিগ্রাম কেন নিষিদ্ধ? অ্যাপটির কোন ফিচার ঘুম কেড়েছে সরকারের? দেখুন বিস্তারিত

ভারতে টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মটি সাময়িকভাবে ব্লক করার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন দেশজুড়ে জোর চর্চা চলছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী ২২শে জুন পর্যন্ত এই জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। টেলিগ্রাম ব্লক হওয়ার পরপরই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগনালের মতো অ্যাপ সচল থাকলেও কেন শুধুমাত্র টেলিগ্রামকে এই কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়তে হলো? প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, টেলিগ্রামের কিছু অনন্য ফিচার ও এর গোপনীয়তার পলিসিই এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হতে পারে।

টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের কার্যপদ্ধতির মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা টেলিগ্রামকে একটি শক্তিশালী কিন্তু বিতর্কিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। টেলিগ্রামের গোপনীয়তার বিষয়টি মূলত ব্যবহারকারীর পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এখানে ব্যবহারকারীরা নিজের ফোন নম্বর গোপন রেখে শুধুমাত্র একটি ‘ইউজারনেম’-এর মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। এর ফলে ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় বা ফোন নম্বর সহজেই আড়ালে রাখা সম্ভব হয়। বিপরীত দিকে, হোয়াটসঅ্যাপ মূলত ফোন নম্বর-নির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যোগাযোগ করতে হলে নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক। এই ‘অ্যানোনিমিটি’ বা পরিচয় গোপন রাখার সুবিধাই অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, টেলিগ্রামের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এর ‘বট’ (Bot) এবং ‘মিনি অ্যাপ’ ফিচার। এই টুলগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা গ্রুপ পরিচালনা, পোল তৈরি, স্বয়ংক্রিয় মেসেজ পাঠানো এমনকি গেমিংয়ের সুবিধাও পান। এই ফিচারগুলো অত্যন্ত কার্যকর হলেও এগুলো ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা চ্যানেলকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, যা এনটিএ বা সরকারের নিরাপত্তা এজেন্সিদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গাটি হলো টেলিগ্রামের ‘বৃহৎ গোষ্ঠী’ (Large Groups) সুবিধা। টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে ২,০০,০০০ জন সদস্য যুক্ত হতে পারেন, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপে এই সীমা মাত্র ১,০২৪ জন। পাশাপাশি, টেলিগ্রামের ফাইল শেয়ারিং সক্ষমতাও চমকপ্রদ; প্রিমিয়াম পরিষেবা ব্যবহার করলে এখানে ৪ জিবি পর্যন্ত ফাইল আদান-প্রদান করা যায়। এই বিশাল ডেটা শেয়ারিং এবং অগণিত সদস্যের নেটওয়ার্কের কারণে তথ্য ফাঁস বা গুজব ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এনটিএ-র সুপারিশের পেছনে সম্ভবত এই বিপুল তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতা এবং ব্যবহারকারীদের নিখুঁত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়েছে। ২২শে জুন পর্যন্ত এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কি স্থায়ী রূপ নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত সময়ের অপেক্ষা।