না ফেরার দেশে ‘দ্য রিং’-এর সেই আইকনিক ভূত! ৩৫ বছরেই শেষ ডেভি চেজের সফর

বিনোদনের দুনিয়ায় নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আমেরিকান অভিনেত্রী ডেভি চেজ। বিশ্বজুড়ে হরর প্রেমীদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া সেই আইকনিক চরিত্র ‘সামারা মরগান’—অর্থাৎ ‘দ্য রিং’ ছবির সেই ভয়ঙ্কর ভূতের ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি রাতারাতি বিশ্ববিখ্যাত হয়েছিলেন, তিনি আর নেই। সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকের সুর নেমে এসেছে গোটা হলিউডে।
অভিনেত্রীর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার জন রায়ান জুনিয়র তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ম্যানেজার জানান, মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যার কারণে ডেভি চেজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে মেনিনজাইটিসের জটিলতা থেকে সংক্রমণ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে সেপসিসের আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ডেভি চেজের ব্যক্তিগত জীবন ছিল অনেকটা পর্দার বাইরের জগতের মতোই শান্ত। তাঁর ম্যানেজার জন রায়ান আবেগঘন হয়ে বলেন, “তিনি ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। হলিউডের চাকচিক্য বা খ্যাতির মোহ তাঁকে কখনোই টানতে পারেনি। লাস ভেগাসে একা থাকতে পছন্দ করতেন তিনি। উদ্ধার করা বিড়ালদের সেবা করাই ছিল তাঁর জীবনের বড় অংশ। বড় স্টুডিওর লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি স্বাধীন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রজেক্টে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।”
ডেভি চেজের অভিনয় ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল ২০০২ সালের সুপারহিট হরর ছবি ‘দ্য রিং’। টেলিভিশন স্ক্রিন থেকে বেরিয়ে আসা সেই লম্বা চুলের, সাদা পোশাকের সামারা মরগান আজও অনেকের কাছে এক আতঙ্কের নাম। তাঁর এই অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ২০০৩ সালে তিনি ‘বেস্ট ভিলেন’ হিসেবে এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড জয় করেছিলেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল অসামান্য। ২০০২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চেজ বলেছিলেন, “সামারার মতো একটি দুষ্ট চরিত্রে অভিনয় করা আমার কাছে ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আমি চেয়েছিলাম এই চরিত্রটিকে একটি অন্য মাত্রা দিতে।”
শুধুমাত্র ভয়ের ছবিতেই নয়, কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও ডেভি ছিলেন সমান সফল। একই বছর ডিজনির জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড ছবি ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এ হাওয়াইয়ান বালিকা ‘লিলো’র চরিত্রে তাঁর ভরাট কণ্ঠের অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল। এই কাজের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘অ্যানি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন।
হলিউডের তথাকথিত তারকাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিলেন ডেভি। বব’স বিগ বয়-এ সাধারণ খাবার খাওয়া আর উদ্ধার করা পোষ্যদের নিয়ে সময় কাটানোই ছিল তাঁর আনন্দ। খ্যাতি তাঁকে অন্ধ করতে পারেনি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে এই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর চলে যাওয়া চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক বিশাল শূন্যতা। রুপোলি পর্দার সামারা কিংবা লিলোর কণ্ঠের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।