আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়, সিবিআই জেরার মুখে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘুরল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার নেপথ্যে থাকা রহস্য উন্মোচনে এবার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ নিউটাউনের সিবিআই দফতরে হাজির হন প্রাক্তন এই বিধায়ক। নির্যাতিতার পরিবারের আনা একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বিশেষ তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সিবিআইয়ের একটি দল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে তদন্ত চালিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে শ্মশানের প্রশাসনিক দায়িত্বে কে কে ছিলেন, কোন পরিস্থিতিতে দেহটি সেখানে পৌঁছাল—এই সমস্ত খুঁটিনাটি নথিপত্র এবং বয়ান সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা। পরিবারের অভিযোগ, সেদিন প্রাক্তন এই বিধায়ক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা পুলিশের সাহায্য নিয়ে নির্যাতিতার দেহ আরজি কর থেকে সরাসরি পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে যান এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়াই তড়িঘড়ি দাহ করে দেন। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আজ নির্মল ঘোষকে জেরা করা হচ্ছে।
সিবিআই সূত্রে খবর, প্রাক্তন বিধায়কের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। প্রথমত, পরিবারের সম্মতি ছাড়া কেন এবং কার নির্দেশে দেহটি তড়িঘড়ি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? সেই রাতে ক্রাইম সিনে তাঁর উপস্থিতি ছিল কি না এবং থাকলে তাঁকে সেখানে কে যেতে বলেছিল? ৯ আগস্ট রাতে তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়ে সিবিআই মরিয়া। শ্মশানের আধিকারিকদের থেকে পাওয়া বয়ানের সাথে নির্মল ঘোষের বয়ানের অসংগতি যাচাই করছেন গোয়েন্দারা। নিউটাউনের সিবিআই দফতরের দশতলায় চলছে এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ।