সব্যসাচীর বাড়িতে ‘সোনার খনি’! কোটি কোটি টাকার হদিশ মিলতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্যের শাসকদলের বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়কদের গ্রেফতারের তালিকায় এবার নতুন সংযোজন সব্যসাচী দত্ত। বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত সব্যসাচীকে গ্রেফতারের পরই তাঁর বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, যা দেখে কার্যত অবাক তদন্তকারী অফিসাররাও।
বিধাননগর নর্থ থানার পুলিশের ম্যারাথন তল্লাশিতে সব্যসাচী দত্তের একাধিক ঠিকানায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার পাহাড়ের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। বুধবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে সরকারি আইনজীবী যে তথ্য পেশ করেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সব্যসাচীর পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার খোঁজ মিলেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্কের লকার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনা ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হলো, তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কেজি সোনা কেনার নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি জেরায় উঠে আসছে, এই বিপুল পরিমাণ সোনার মালিকানা এবং এত সোনা সংগ্রহের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা। সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ, তোলাবাজির টাকা থেকেই এই বিপুল সোনার ভাণ্ডার তৈরি করেছিলেন প্রাক্তন এই বিধায়ক।
আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী স্পষ্ট জানান, সব্যসাচী দত্ত অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। উদ্ধার হওয়া ৫০ কেজি সোনার প্রকৃত অবস্থান খুঁজে বের করতে এবং দুর্নীতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে তাঁকে আরও দীর্ঘমেয়াদী জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এই যুক্তিতেই ধৃতকে ফের ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়। যদিও সব্যসাচীর আইনজীবীরা এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
প্রসঙ্গত, সুজিত বসু, উদয়ন গুহ, দিলীপ মণ্ডল ও উজ্জ্বল বিশ্বাসের মতো তৃণমূল জমানার হেভিওয়েট নেতাদের গ্রেফতারের পর সব্যসাচী দত্তের এই গ্রেফতারি শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াল। দুর্নীতির টাকা সাদা করতে বা সম্পত্তি জমাতে ঠিক কোন পথে হেঁটেছিলেন সব্যসাচী, তা খতিয়ে দেখতে মরিয়া সিবিআই তথা রাজ্য পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা এখন নিশ্চিত হতে চাইছেন, এই ‘সোনার ভাণ্ডার’ কেবল সব্যসাচীর নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে।