সবজি ও ফলের গায়ে কি বিষ? দীর্ঘমেয়াদী ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন?

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির গুরুত্ব অপরিসীম, কিন্তু ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতনতার যুগে সবার মনেই একটি বড় প্রশ্ন—এসব খাদ্যের গায়ে লেগে থাকা কীটনাশক কি আমাদের শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকি পুরোপুরি অস্বীকার করা না গেলেও সঠিক সচেতনতা ও অভ্যাসের মাধ্যমে এই বিপদ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

চিকিৎসক জয়েশ শর্মার মতে, যারা সরাসরি কীটনাশকের সংস্পর্শে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। তবে সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি ভিন্ন। বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশকগুলোর কার্যকারিতা ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই কমে আসে, তাই বাজারজাতকরণের মাধ্যমে ঘরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেগুলোর প্রভাব অনেকটা হ্রাস পায়। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই।

কীটনাশক থেকে সুরক্ষিত থাকতে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা আবশ্যক। প্রথমত, রান্নার আগে সবজি ও ফল কলের পানির নিচে হাত দিয়ে ঘষে ভালো করে ধুতে হবে। সম্ভব হলে লবণ পানি বা বেকিং সোডা মেশানো পানিতে সবজি ভিজিয়ে রাখুন, যা ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ দূর করতে কার্যকর। পালংশাক বা বাঁধাকপির মতো সবজি পাতা খুলে ধোয়া জরুরি। দ্বিতীয়ত, মৌসুমি ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ মৌসুমি নয় এমন ফসলে কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি হয়। এছাড়া খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া, রান্নায় ভাপিয়ে বা সেদ্ধ করে নেওয়া এবং সম্ভব হলে বাড়ির বারান্দায় ছোট পরিসরে বাগান করা ঝুঁকিমুক্ত থাকার সেরা উপায়। খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আনুন, অর্থাৎ একই ধরনের সবজি বারবার না খেয়ে বিভিন্ন ধরণের ফল ও সবজি গ্রহণ করুন, যাতে কোনো একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক শরীরে বেশি জমা হতে না পারে। এই সামান্য সতর্কতাগুলোই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।