‘আসল তৃণমূল’কে স্বীকৃতি? স্পিকারের বৈঠকে ঋতব্রতর ডাক পেতেই বিধানসভায় তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে নতুন সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতি মেনে অধিবেশন পরিচালনার রূপরেখা ঠিক করতে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রাক্কালে স্পিকারের আমন্ত্রিতদের তালিকা ঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। কারণ, বিধানসভার এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কার্যত ব্রাত্য রাখা হয়েছে বালিগঞ্জের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। বুধবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্পিকারের কার্যালয় থেকে তাঁদের কাছে কোনো আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়নি।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই সর্বদলীয় বৈঠকে ‘প্রধান বিরোধী দল’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন সিপিএম, আইএসএফ এবং বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষুব্ধ শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের জটিল রাজনৈতিক ও আইনি সমীকরণ।

দীর্ঘদিন ধরেই কুণাল ঘোষ প্রকাশ্য জনসভায় ঋতব্রত ও তাঁর শিবিরের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। অন্যদিকে, দলের মালিকানা ও অধিকার নিয়ে ওই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন প্রবীণ রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই এই তিক্ত সম্পর্কের আবহে স্পিকারের বৈঠকে এই প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়ে ঋতব্রতদের প্রাধান্য দেওয়া নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের প্রশ্ন, বিধানসভার মতো পবিত্র গণতান্ত্রিক পরিসরে রাজনৈতিক প্রতিপত্তির জেরে কি এভাবে প্রবীণ নেতাদের দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে?

স্পিকার রথীন্দ্র বোসের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের ফলে বিধানসভার অন্দরেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অধিবেশন শুরুর আগে এই পরিস্থিতি বিরোধীদের জন্য নতুন কোনো হাতিয়ার হয়ে ওঠে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। দুপুর ২টায় বৈঠক শুরুর ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমন্ত্রিতদের তালিকায় কোনো বড় রদবদল ঘটে কি না, কিংবা বাদ পড়া প্রবীণ বিধায়কদের নতুন করে আমন্ত্রণ জানানো হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই বৈঠক কি রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত? উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।