হাবড়া স্টেশনে বুলডোজার অভিযান, উচ্ছেদ ৫০০-র বেশি হকার! কান্নায় ভেঙে পড়লেন ব্যবসায়ীরা

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া রেল স্টেশন চত্বরে সোমবার এক নজিরবিহীন উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন। স্টেশন চত্বর হকারমুক্ত করতে এবং যানজট সমস্যা সমাধানে একেবারে বুলডোজার নিয়ে মাঠে নামেন প্রশাসনিক কর্তারা। এদিন সকাল থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে ৫০০-র বেশি অস্থায়ী দোকান ও ঘুমটি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

রেল ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত এক সপ্তাহ আগেই অবৈধ দোকানদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশে নিজেদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশকে আমল দেননি। ফলে, সময়সীমা শেষ হতেই সোমবার সকাল থেকে বড়সড় অ্যাকশনে নামে প্রশাসন। বুলডোজার দিয়ে একে একে ভাঙা হতে থাকে স্টেশনের দুই দিকের প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন থাকা অস্থায়ী দোকানগুলো।

অভিযান চলাকালীন হাবড়া স্টেশনে এক হাড়হিম করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা দোকানগুলো চোখের সামনে ভেঙে পড়তে দেখে ব্যবসায়ীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই প্রশাসনের পায়ে ধরে অনুরোধ জানান কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তারা সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় কোনো আবেদনই কাজে আসেনি। উচ্ছেদের ফলে কয়েক শ মানুষ এক নিমেষেই তাঁদের রুজি-রোজগার হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাঁরা পুনর্বাসনের দাবিতে আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের কথা শোনার মতো কেউ ছিল না। একজন প্রবীণ দোকানদার বলেন, “এই দোকানই ছিল আমাদের বাঁচার একমাত্র পথ। নোটিশ দিলেও আমাদের কোথায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা জানানো হয়নি।” তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেলের জায়গায় অবৈধ জবরদখলের কারণেই এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ট্রাফিক সমস্যার সমাধান করবে।

অভিযান ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা থাকলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাবড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিকে, হঠাৎ উচ্ছেদের ঘটনায় স্টেশনে আসা যাত্রী সাধারণের একাংশ রেলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, মানবিকতার খাতিরে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন অনেকেই। বর্তমানে স্টেশনের দখলমুক্ত এলাকা পুলিশি প্রহরায় রাখা হয়েছে।